৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা অনলাইন ও অফলাইনে একটা ক্রাউডফান্ডিংয়ের (গণচাঁদা সংগ্রহ) দিকে যাচ্ছি, যে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আমরা দলের কার্যালয় স্থাপনসহ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করব।’ কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে এই ক্রাউডফান্ডিং কী, এর মাধ্যমে তহবিল কীভাবে সংগ্রহ করা হয়, উদাহরণ আছে কি না। রাজনীতিতে গণচাঁদা সংগ্রহ নতুন কিছু নয়। সাধারণত রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গণচাঁদা সংগ্রহ করেই চলে।কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন রাজনীতিবিদেরা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছ থেকে টাকা নেন এবং তাঁদের স্বার্থে কাজ করেন। এই অঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলো গোপনে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশগুলোতে চাঁদা তোলা হয় প্রকাশ্যে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চাঁদা দাতার নাম পরিচয় সবাই জানতে পারে।গণচাঁদায় নতুন যোগ হয়েছে ‘ক্রাউডফান্ডিং’। বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে তহবিলের জন্য অল্প পরিমাণ করে অর্থ প্রদান করে, সেটাকে ক্রাউডফান্ডিং বা গণতহবিল বলা হয়। সাধারণত এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। গণতহবিল মূলত স্টার্টআপ বা নতুন কোনো ব্যবসা উদ্যোগের জন্য বিকল্প তহবিলের জোগানের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মূলত ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
কারও গণতহবিলের প্রয়োজন থাকলে এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং সেখানে অর্থায়নের ধরন, সময়, টাকার পরিমাণ বেছে নিতে হয় তহবিল সংগ্রহকারীকে। প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দিতে হয়। প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজনে তহবিল সংগ্রহকারীর বৈধতা যাচাই করতে পারে। প্ল্যাটফর্ম থেকে তহবিল সংগ্রহকারীর প্রস্তাব গৃহীত হলে উদ্যোগের ধারণাসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। যদি পুরস্কারভিত্তিক অর্থায়ন হয়, তাহলে দাতারা বিনিময়ে কী পাবে, তা উল্লেখ করতে হবে। আবার যদি ইক্যুইটি (মূলধন/মালিকানা)-ভিত্তিক হয়, তাহলে শেয়ারের দাম ও অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে জানাতে হয়। আবার ঋণভিত্তিক বা অনুদানভিত্তিক কি না, সেটাও উল্লেখ করতে হয়।
গণতহবিল সংগ্রহ করে দেওয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ফি দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিলের একটি অংশ, লেনদেন ফি এবং কেউ কেউ শেয়ারও নেয়। প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে তহবিল সংগ্রহকারী অর্থদাতাদের পরিচয় জানতে পারেন। বাংলাদেশেও কিছু অনলাইনভিত্তিক গণতহবিল প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিকদের গণতহবিল সংগ্রহের উদাহরণ রয়েছে। ভারতের আম আদমি পার্টির নেত্রী ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মার্লেনা সদ্য সমাপ্ত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রচারণার খরচ মেটাতে একটি গণতহবিলের প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ৪০ লাখ রুপি দরকার ছিল। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার ৬৯ শতাংশ তহবিল ক্ষুদ্র দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টির সহযোগী অধ্যাপক সেনোরিটা দে ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে লেখেন, রাজনৈতিক গণতহবিলের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘরে ঘরে গিয়ে ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুদান চাইতেন। এখন অবশ্য রাজনীতিবিদেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন।


