৭০’ এর নির্বাচন সে অর্থে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে হয়েছিল।
সত্তরের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়েছিল, কারন –
তৎকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির ধারণা তখনো আসেনি। ১৯৫৪-৭১ সাল পাকিস্তানে যত নির্বাচন হয়েছিল তার কোনোটাতেই ভোট ডাকাতি হয়নি।
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসেছিলেন। ফলে আইয়ুব খানের ধ্বংস করে দেয়া নির্বাচন ব্যবস্থা, বিলুপ্ত ভোটাধিকার ইত্যাদি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জনআকাঙ্ক্ষার চাপ ছিল ইয়াহিয়া খানের ওপর।
নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং বৈষম্য অবসানের দাবিতে সংঘবদ্ধ ছিল মানুষ।
সরকার ভাবেইনি যে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। ইয়াহিয়ার ধারণা ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন দল মিলিয়ে কোয়ালশন সরকার হবে, যা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সাময়িক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি।
সত্তর সালের নির্বাচনে কোনো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। ইয়াহিয়া খান সরকারের মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি ছিল না। জিডব্লিউ চৌধুরীর মতে, সে নির্বাচন সত্যিকার অর্থে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে হয়েছিল।
বণিক বার্তা বিশেষ সংখ্যা থেকে


