কয়েক দিনের নৈরাজ্যে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক দলগুলো। মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল এবং অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচন, কূটনৈতিক সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণসহ নানা ইস্যুতে তাদের মতবিরোধ প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে।
বিএনপি সূত্রের ভাষ্য, ধর্মীয় ইস্যুতে কিছু হঠকারিতা চলছে। ইসকন বিতর্কও অহেতুক। অভ্যুত্থানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ‘ইনফ্লুয়েন্সাররা’ তাদের অনুসারীদের দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এতে বার্তা যাচ্ছে সরকার দেশ চালাতে পারছে না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাজারো মানুষের রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে প্রতিষ্ঠিত সরকার জনসমর্থন হারাবে। সরকার ব্যর্থ হলে অন্য কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে পারে।
জামায়াত সূত্রের ভাষ্য, সরকার কোনো কাজই ঠিকঠাক এগিয়ে নিতে পারছে না। কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও মাঝপথে পিছিয়ে এসেছে। অভ্যুত্থানের সফলতা ধরে রাখতে সরকারের সুস্থিরতা প্রয়োজন। কিন্তু ছাত্রসহ অভ্যুত্থানের নানা শরিক যেভাবে নানা দাবিতে হুটহাট সরব হচ্ছে, চাপ তৈরি করছে, তাতে সুস্থিরতা আসছে না।
সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা সমকালকে বলেন- রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষত বিএনপি উদ্বেগ থেকেই ঐক্যের কথা বলছে। দলটির শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অভ্যুত্থানের বৃহত্তম শরিক হিসেবে দায় নিতে হবে। নৈরাজ্য চললে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। তৃতীয় পক্ষ এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কিছুটা সংগঠিত হতে শুরু করায়, তারা এতে সমর্থন দেবে। আবার ছাত্র নেতৃত্ব যেভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মুখোমুখি করছে, তাও ক্ষতির কারণ হতে পারে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাই স্থিতিশীলতা চায়, যাতে নির্বাচন দ্রুত হয়।
নেতারা ঐক্যের কথা বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারণা চলছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করছে। সরকারকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায় বিএনপি। সরকার যাতে একটি রোডম্যাপ দিয়ে দ্রুত নির্বাচনমুখী হয়, সে তাগিদও অব্যাহত রাখছে। কিন্তু জামায়াত, ছাত্র নেতৃত্বের অবস্থান ভিন্ন। তারা সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে। ছাত্র নেতৃত্বের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটি যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিরোধিতা করেছে, তা ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনকে স্বাগত জানিয়েছে।


