কীভাবে বিপদজনক হয়ে উঠছে ঢাকায় বায়ু

ঢাকা সময়ের সাথে সাথে তীব্র বায়ুদূষণের সম্মুখীন হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এই দূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে অবনতি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান সূচক (AQI) প্রায়শই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি, এরপর রয়েছে ঢাকা। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর তালিকায় প্রায়ই ঢাকার নাম শীর্ষে থাকে। এই দূষণের ফলে প্রতিদিন শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ঢাকার বায়ু এতটাই দূষিত যে, এটি প্রতিদিন ১০-১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে মানুষের !”

বিশেষজ্ঞরা আরো উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকার বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (PM2.5) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ৫২ গুণ বেশি। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু ও নদীদূষণের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বায়ুদূষণ রোধে পাঁচটি ঘোষণা দিয়েছেন। যার মধ্যে নির্মাণস্থলে আচ্ছাদন ব্যবহার, ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণ, এবং কালো ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহন নিষিদ্ধ করা অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব উদ্যোগের কার‍্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ মাঠপর্যায়ে সব সময় এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবার সম্ভাবনা কম।

ঢাকার আশেপাশে অবস্থিত প্রচুর ইটভাটা ও শিল্প কারখানা, বিশেষ করে শীতকালে, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।এসব ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং ক্ষতিকর বস্তুকণা বায়ুর মানকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়াও ঢাকার সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে পুরনো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঘনবসতিতে জরাজীর্ণ ঢাকার দ্রুত নগরায়ন এবং উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব বায়ুদূষণ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। খোলা স্থান ও সবুজায়নের অভাবে বায়ুর স্বাভাবিক গুণগত মানও হ্রাস পাচ্ছে।

বায়ুদূষণ রোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবও একটি বড় সমস্যা। অনেকেই দূষণের প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না, যার ফলে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আনছেন না। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। নাগরিকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন