বর্তমানে প্রযুক্তি জায়ান্টরা পরিবেশগত প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডাটা সেন্টারগুলোর কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে শিল্প-পর্যায়ের কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ও ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। কার্বন ক্যাপচার হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেটা বায়ুমণ্ডলথেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ করে এবং মাটির গভীরে সংরক্ষণ করে। যাতে এটি আর জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে। এক্সন মোবিলের একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র ডাটা সেন্টারগুলোর কার্বন ক্যাপচার বাজারের প্রায় ২০% দখল করতে পারে। এই প্রযুক্তি মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে।
নির্গত গ্যাস থেকে কার্বন সংগ্রহ করে পৃথক করা। পাইপলাইন বা ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করা হয়। সংগৃহীত কার্বন মাটির নিচে ইনজেক্ট করা যা পরবর্তীতে বিভিন্ন শিল্পে পুনঃব্যবহৃত হয়। লুইজিয়ানায় নতুন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা সম্প্রতি এনার্জি কোম্পানি এন্টারজির সঙ্গে একত্রে লুইজিয়ানায় একটি কার্বন ক্যাপচার প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নির্গমন কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার সক্ষমতা। অত্যাধুনিক পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত পরিবেশবান্ধব কার্বন ক্যাপচার প্ল্যান্ট ও দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিনিয়োগ।
ডাটা সেন্টারগুলোর শক্তি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং এর ফলে কার্বন নির্গমনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই টেক কোম্পানিগুলো কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য কেবল নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে না, বরং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে গুগল, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনও নিজেদের ডাটা সেন্টারকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে কার্বন ক্যাপচার প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।গুগল গ্রীন এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি CO₂ নির্গমন কমানোর জন্য কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বন-নেতিবাচক (Carbon Negative) হওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।অ্যামাজন AWS (Amazon Web Services) ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর উচ্চ ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা বড় একটি সমস্যা।
তাছাড়া ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়ানোর জন্য টেক কোম্পানিগুলো তাদের কার্বন ক্যাপচার কৌশলকে বিদ্যমান পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করছে। ডাটা সেন্টারগুলোর টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রযুক্তি জায়ান্টদের এই উদ্যোগ আগামী দিনে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষার একটি কার্যকর পদক্ষেপ হয়ে উঠবে। তবে এটি কতটা সফল হবে তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং এই প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতার ওপর।


