সারা দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের বিভাগভিত্তিক দৈনিক উপস্থিতি বা হাজিরার হার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্যাশবোর্ডে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। এ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ প্রতিদিনই কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারলেও স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হলো সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতির সমস্যায় রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়ে। পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ দেখা যায় ছুটির দিনগুলোয়। এ সময় কোনো কোনো বিভাগে কর্মীদের উপস্থিতির হার ৫ শতাংশের নিচেও নেমে যায়।
প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় অনেক চিকিৎসক সপ্তাহে একদিন কিংবা সর্বোচ্চ দুইদিন দায়িত্ব পালন করেন_বলে অভিযোগ রয়েছে। নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবার অন্য কর্মীদের অবস্থাও একই। বেসরকারি চেম্বার, বাড়তি চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ নিতে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কম বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রান্তিক অঞ্চলগুলোয় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সহকারীদের পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার অভাব, যাতায়াতের অসুবিধার কারণে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতির হার কম বলে স্বীকার করছেন তারা। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতরা প্রশিক্ষণ, পারিবারিক কাজ ও নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। আবার সকালে কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েই চলে আসার অভিযোগও রয়েছে।


