ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি কম হলেও স্বস্তির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। থেমে থেমে বৃষ্টি, মশা নিধনে জোর না দেওয়ার কারণে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
এডিস মশার বিস্তার শুরু হয় সাধারণত জুন মাসে। এসময় বৃষ্টিতে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে লার্ভা জমে। বৃষ্টির পর তাপ বাড়লে এই পানিতে জমে থাকা এডিসের ডিম দ্রুত পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপ নেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩,২১,১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১,৭০৫ জনের।
এ বছর ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯৮৮ জন ও মারা গেছেন ৩০ জন। ২০২৩ সালেও ১৫ জুন পর্যন্ত দেশের মোট ডেঙ্গু রোগী ছিলো ৩,১৪৮ জন এবং মৃত্যু ছিলো ২৪ জনের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও মশাবাহিত রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা ড. কবিরুল বাশার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের যে সার্ভে চলে সেখানে আমরা দেখেছি, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর মশার ঘনত্ব বেশি। আবার এ বছর রোগীও বেশি। একদিকে মশার ঘনত্ব বেশি, রোগী বেশি — এটা থেকে মনে হচ্ছে, এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার ঝুঁকি আছে।’
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ইশরাককে মেয়র হিসেবে শপথ পড়াতে চলা আন্দোলনের কারণে নগর ভবনে গত এক মাস ধরে তালা ঝুলছে। ফলে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনেও মশক নিধন কার্যক্রম জোরালোভাবে চলছে না বলে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ঢাকার বাহিরের পৌরসভা কিংবা উপশহরগুলোতে মশক নিধন জোরদার করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


