১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট সংগীত ইতিহাসের অন্যতম সেরা শিল্পী এলভিস অ্যারন প্রেসলির মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয় তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে জন্ম নেয়া নানা রহস্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে উসকে দেয়। বহু ভক্ত বিশ্বাস করতেন যে এলভিস প্রকৃতপক্ষে মারা যাননি, সব কিছুর চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি নিজের মৃত্যু ভান করেছিলেন। মৃত্যুর রহস্যময় দিকগুলোর মধ্যে ছিলো এলভিসের শেষকৃত্যে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অনেকেই দাবি করেন তার মরদেহ দেখে অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগছিল। অনেকের মতে এটি আসলে একটি মোমের পুতুল ছিল, দ্রুত গলে যাওয়া ঠেকাতে কফিনে এয়ার কন্ডিশনিং রাখা হয়েছিল। তাছাড়া তার মুখমণ্ডল ছিল অদ্ভুতভাবে মসৃণ ও স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলা।
এলভিসের মৃত্যুর সনদপত্রে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। তার নাম “Elvis Aaron Presley” হলেও মৃত্যুর সনদে লেখা ছিল “Elvis Aron Presley”। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, ছোট ভুলটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল যাতে ভবিষ্যতে তার ফিরে আসার সুযোগ থাকে। শেষকৃত্যের দিন তার পরিবার কোনোভাবেই সাংবাদিকদের কাছে মরদেহ দেখাতে রাজি হয়নি। এমনকি অনেক কাছের বন্ধু পর্যন্ত মরদেহ দেখতে পাননি। অনেকে ধারণা করেন, আসল সত্য গোপন করার জন্য এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল ।
এলভিসের মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। প্রথমে বলা হয় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, পরে দাবি করা হয় ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আবার কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তার মৃত্যুর কারণ পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। মৃত্যুর পর বহুবার এলভিসকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাওয়ার দাবি ওঠে। তার মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, এক ব্যক্তি মেমফিস বিমানবন্দরে “Jon Burrows” নামে একটি টিকিট কিনেছিলেন। এই নামটি ছিল এলভিসের ছদ্মনাম, যেটা তিনি আগেও ব্যবহার করতেন। অনেকে মনে করেন তিনি বিমানবন্দর দিয়ে পালিয়ে যান।
১৯৯০-এর দশকে এলভিসের বাসভবন গ্রেসল্যান্ডে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যার মুখমণ্ডল এলভিসের সঙ্গে হুবহু মিল ছিল। সিসিটিভি ফুটেজেও একই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কিন্তু কখনোই তার পরিচয় প্রকাশ হয়নি। ২০০১ সালে একজন ব্যক্তি আমেরিকান রেডিওতে ফোন করে কথা বলেন, যার কণ্ঠস্বর ছিল এলভিসের মতো। ভক্তদের দাবি এটি এলভিসেরই কণ্ঠস্বর ছিল এবং তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, এলভিস প্রেসলি CIA-র হয়ে কাজ করতেন। ১৯৭০ সালে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে দেখা করেন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই তত্ত্ব অনুসারে তিনি একটি গোপন মিশনের অংশ হিসেবে নিজের মৃত্যুকে ভান করেছিলেন।
এলভিস নিজেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন? কিছু সাক্ষাৎকারে এলভিস রহস্যময় ভাবে বলেছিলেন, “একদিন আমি এমনভাবে হারিয়ে যাবো যে কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না।” তাই অনেকে মনে করেন এটি তার পরিকল্পনারই পূর্বাভাস ছিল। এলভিস এখনও বেঁচে আছেন? প্রতিবছর, এলভিসের জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীতে অনেকেই দাবি করেন যে তারা তাকে কোথাও না কোথাও দেখেছেন। ২০১৬ সালেও গ্রেসল্যান্ডের ক্যামেরায় ধরা পড়া এক বৃদ্ধ লোককে অনেকে এলভিস বলে সন্দেহ করেন। এই ব্যক্তির চালচলন, মুখাবয়ব ও হাবভাব কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর সঙ্গে প্রায় অনেক মিল ছিল। এছাড়াও লাস ভেগাস, হাওয়াই ও আর্জেন্টিনায় বহুবার এলভিসের মতো দেখতে ব্যক্তিকে দেখা গেছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তিনি লুকিয়েই আছেন।
এলভিসের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা কখনোই তার জীবিত থাকার দাবি সমর্থন করেননি। তার মৃত্যুর ডাক্তারি রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি হৃদরোগে মারা গেছেন। ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অনেক দাবিই কোনো প্রমাণ ছাড়াই করা হয়েছে। তাছাড়া তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি এখনো বেঁচে থাকা সম্ভবত অসম্ভব। এলভিস প্রেসলি সংগীতের এক অবিস্মরণীয় আইকন। তার মৃত্যু এখনও রহস্যে ঘেরা এবং বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, তিনি কোথাও লুকিয়ে আছেন। হয়তো তিনি সত্যিই প্রয়াত, নয়তো তিনি মুক্তির জন্য নতুন এক জীবনই বেছে নিয়েছেন। যা-ই হোক না কেন, এলভিস প্রেসলি সংগীত ও সংস্কৃতিতে চিরকালীন কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।


