আগামী মাসে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারত ক্রিকেট দলের। সফরটি আইসিসি ভবিষ্যৎ সফরসূচির (এফটিফি) অংশ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সফরের সূচিও চূড়ান্ত করে ফেলেছিল গত এপ্রিলে। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত আপাতত আসছে না। এক বছরের বেশি সময় পিছিয়ে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ঠিক কী কারণে পেছানো হয়েছে, তা বিসিবি বা বিসিসিআই কেউই স্পষ্ট করে বলেনি।
এর মাসখানেক আগে জুনের প্রথম দিকে একই ধরনের খবর আসে ফুটবলেও। ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দেয় অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।
২৪ জুলাই ঢাকায় বার্ষিক সাধারণ সভা(এজিএম) ডেকেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল(এসিসি)। এবারের এসিসি এজিএম এশিয়া কাপের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে টুর্নামেন্টটি হওয়ার কথা ভারতে।
কিন্তু ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এ বৈঠকের জন্য ঢাকায় আসতে রাজি নয়। শুধু ‘রাজি নয়’-তেই সীমাবদ্ধ না থেকে ঢাকায় বৈঠকের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলা সূত্রের মন্তব্যটি বেশ চাছাছোলা—‘এশিয়া কাপ তখনই হতে পারে, যদি সভার ভেন্যু ঢাকা থেকে পরিবর্তন করা হয়।’
মাস দুয়েকের মধ্যে বাংলাদেশে তিনটি ক্রীড়া আয়োজনে ভারতের ‘না’ করে দেওয়া, পিছিয়ে দেওয়া বা তীব্র আপত্তির পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে মূল কারণ কী হতে পারে, সেটির আভাস আছে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
২ জুলাই বিবিসি বাংলা ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘রাজনৈতিক কারণে’ ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে ভারত সরকার সায় দিচ্ছে না।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দিল্লিতে বিবিসিকে জানান, এই মুহূর্তে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে ধরনের শীতল কূটনৈতিক সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতে যে ধরনের ‘বিরূপ মনোভাব’ দেখা যাচ্ছে, তাতে সে দেশে ভারতের ক্রিকেট টিমের সফর কোনো ইতিবাচক বার্তা দেবে না।
কিন্তু ভারতের ক্রিকেট দলের প্রায় তিন সপ্তাহের সফরে আসা আর বিসিসিআই কর্মকর্তাদের ঢাকায় দুই দিনের বৈঠকে আসা তো এক নয়। তাহলে ঢাকায় এসিসি বৈঠক নিয়ে ভারতের এত আপত্তি কেন?
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থানের প্রভাব যে আছে, সেটি স্পষ্ট ‘বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেতে নারাজ’ কথায়। তবে পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের প্রভাবেরও ইঙ্গিত আছে।
তবে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্বের প্রভাবের চেয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বড় হয়ে ওঠে বিসিসিআইয়ের মূল দাবির ধরনে। তাঁরা ভেন্যু বদল চান, মানে শুধু ঢাকায়ই আসতে রাজি নন। ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্তান আর ওমানের ক্রিকেট বোর্ডেরও নাকি ঢাকায় আসতে আপত্তি। যদি তা–ই হয়, সেটি যে ভারতের প্রভাবে, তা অনুমান করা কঠিন কিছু নয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের খেলার রাজনীতিতে নিয়মিত জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দীর্ঘদিনের। এবার কি তাতে জুড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নামও?


