হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও একে সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। একটি জনবহুল স্থানে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হবে সাহায্যের জন্য চিৎকার করা। কিন্তু যদি আপনি বাড়িতে একা থাকেন এবং হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়, তাহলে কী করবেন? এখানে কিছু করণীয় উল্লেখ করা হলো।
সাহস করে জরুরি সেবা ডাকুন
আপনি একা থাকুন বা অন্যদের সঙ্গে থাকুন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে সবার প্রথমে জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য ফোন করুন। আপনার বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন, যা যত দ্রুত সম্ভব আপনার কাছে পৌঁছানো দরকার। যারা দ্রুত চিকিৎসা পান, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এমনকি যদি নিশ্চিত না হন যে এটি সত্যিই হার্ট অ্যাটাক কিনা, তবুও জরুরি সেবায় ফোন করুন।
পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের কাছে সাহায্য চান
পুনরায় ফোন করুন এবং আশপাশের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী বা আত্মীয়কে দ্রুত আসতে বলুন। হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে পাশে কেউ থাকলে তা সহায়ক হতে পারে। কথা বলার সময় সংক্ষিপ্ত আলাপে থাকুন, যাতে বেশি শ্বাস নিতে বা অতিরিক্ত ক্লান্ত হতে না হয়।কেউ দ্রুত এসে পৌঁছালে, তারাই দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা করতে পারে।
ওষুধ নিন (যদি চিকিৎসকের পরামর্শ থাকে)
আপনার যদি অ্যাসপিরিন গ্রহণে কোনো সমস্যা না থাকে, তবে জরুরি সেবায় ফোন করার পর এটি খাওয়া নিরাপদ। অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে পারে, যেটা হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। তবে অ্যাসপিরিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পেট থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। মনে রাখবেন, এটি শুধু সাময়িক সহায়তা দেয়, হৃদ্রোগ থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা করে না। তাই নিশ্চিতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কঠিন হলেও শান্ত থাকার চেষ্টা করুন
এমন এক প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা কঠিন, তবে যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ কমতে পারে। স্বস্তি অনুযায়ী নরম কোনো স্থানে বা মাটিতে বসুন। যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে টাইট পোশাক, বেল্ট বা টাই খুলে ফেলুন। ধীরে ধীরে এবং গভীর শ্বাস নিন, অযথা কাশবেন না এবং যতটা সম্ভব আরাম করুন।
ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নিন
প্রাকৃতিক প্রবণতা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার হলেও, শান্ত ও গভীর শ্বাস নেওয়া রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখার সর্বোত্তম উপায়।জানালা, দরজা, ফ্যান, বা এসির কাছাকাছি গেলে শরীরে আরও অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে। যদি সম্ভব হয়, প্রাকৃতিক আলো ও খোলা বাতাসের সংস্পর্শে থাকুন। হার্ট অ্যাটাক হলে এক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এক ঘণ্টার বেশি দেরি করলে হৃদ্যন্ত্রের কোষগুলোর পুনর্জন্মের সম্ভাবনা কমে যায়। আদর্শভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ধমনিটি ৯০ মিনিটের মধ্যে খুলতে হবে, যাতে ক্ষতি কম হয়। এছাড়াও আপনার খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, পুনর্বাসন, ঘুমের ধরন, ও দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর উপায় সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।


