শুক্রবার (২২ নভেম্বর) রাতে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা এই ভূখণ্ড পেয়েছি। যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি। ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা বোন সম্ভ্রম দিয়েছে। সেই গণতন্ত্র আওয়ামী লীগ ধংস করেছে। অনেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে চিন্তা করতে বলছে। আমরা এটাকে বাদ দিয়ে চিন্তা করতে পারি না। একই সঙ্গে ৭ নভেম্বরকে আমরা ভুলতে পারি না।’ সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরাই সবার আগে সংস্কার চেয়েছি।
কিন্তু সেই সংস্কার সাসটেইনেবল হতে হবে। সেজন্য জনগণের সমর্থন আগে দরকার। একটা কমিটি করে সংবিধান সংস্কার হবে না। ওটা করতে গেলে সাংবিধানিক কিংবা সংসদের প্রতিনিধি লাগবে। সেটার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। সবচেয়ে প্রধান যে জিনিসটা দরকার, সেটি হলো নির্বাচন।একদিকে যেমন মানুষ পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছে, তেমনি নির্বাচনের জন্যও মানুষ প্রাণ দিয়েছে। হঠাৎ করেই কোনোকিছু পরিবর্তন করে ফেললে হবে না। সেটা কতটা টেকসই সেই চিন্তাও করতে হবে। তার জন্য গণতান্ত্রিক পথে যেতে হবে। তারা যদি বলতো, বিপ্লবী সরকার গঠন করেছি, তাহলে বিপ্লব সরকার করতো। আমাদের কিছু বলার ছিল না। এটা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) বিপ্লবী সরকার নয়, সাংবিধানিক সরকার। আপিল বিভাগ থেকে এর বৈধতা নেওয়া হয়েছে। ওটাকে ধরে রেখেই আমাদের এগোতে হবে।’
দেশে দখল ও চাঁদাবাজির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একেবারে যে হচ্ছে না তা বলবো না। সে কারণে ইতোমধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাড়ে সাতশ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে; কিন্তু তারচেয়ে বেশি প্রচারণা চালানো হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতীয় মিডিয়াগুলো থেকে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’ এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।


