ইসলামপন্থীদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন চরমোনাইয়ের পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তাঁর এই উদ্যোগে গতকাল বুধবার শামিল হলো আরও ৪টি নিবন্ধিত ইসলামি দল। সে দলগুলো হলো মাওলানা মামুনূল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিস। আপাতত ৫টি নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দল একক প্রার্থী দিয়ে একসঙ্গে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হলো। এ উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামী বা আরও কোনো দল যুক্ত হবে কি না, সেটি বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ইসলামী আন্দোলনের আমন্ত্রণে গতকাল সমমনা চারটি ইসলামি দল বৈঠকে বসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রায় ৩৫ বছর পর ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি দল আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে একসঙ্গে বসল।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে ৫টি দলের একমত হওয়ার চেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অনেকে। তবে এই প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী থাকবে কি না বা তাদের রাখা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের বৈরিতা বর্তমানে অনেকটা কমে গেছে।আবার ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মধ্যেও খুব সখ্য ছিল না। এখন দুই দল কাছাকাছি এসেছে। ইসলামি দল ছাড়াও আরও কিছু দলের ভোটও ‘এক বাক্সে’ আনার চেষ্টা রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের। এ লক্ষ্যে গতকাল নুরুল হকের গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গেও তারা বৈঠক করেছে।আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল পাঁচ দলের বৈঠকে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবি জানিয়ে চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি। তা না করলে প্রতিবাদে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
এর আগে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর ‘ইসলামী ঐক্যজোট’ নামে ইসলামি দলগুলোর একটি জোট হয়। সেখানে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের খেলাফত মজলিস, চরমোনাইয়ের পীর ফজলুল করীমের ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল ছিল। প্রথমে এই জোট থেকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং অনেক পরে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক বেরিয়ে যান। পরে শায়খুল হাদিস বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নামে দল প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর তাঁরই শিষ্য মুফতি ফজলুল হক আমিনী ‘বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট’ নামে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নেন।


