আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ‘ইউ পেনশন অ্যাপ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে অর্থ মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য যা যা লাগে, আমরা সব সাপোর্ট দেব”বলে যোগ করেন তিনি। ঋণখেলাপিদের প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “থিওরেটিক্যালি ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দেখভাল করবে।”
নির্বাচনে কালো টাকা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আসেনি, তবে নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে কাজ করবে। কালো টাকার উৎস অনেকটা বন্ধ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগে ব্যাংকের মালিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সংবাদপত্রের মালিক, ফ্ল্যাটের মালিক সব একই ব্যক্তি হতো। এখন মোটামুটি চেক অ্যান্ড ব্যালান্স হচ্ছে।”
অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সম্পর্ক তুলে ধরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বা ভোট প্রদানের উৎসাহ দেন, তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকবে না।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না” মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “রাজনৈতিক বক্তব্য তারা রাখুক। আমিও বামপন্থী রাজনীতি করেছি, তখন কত বক্তব্য দিয়েছি হল বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ইত্যাদি, কিছুই বন্ধ হয়নি।”
সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এ স্কিমের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এছাড়া কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে অর্থ উপদেষ্টা একদিকে নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ রোধের অবস্থান স্পষ্ট করলেন, অন্যদিকে কালো টাকা নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বের দিকটিও তুলে ধরলেন। তার মন্তব্য অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে শুধু আইনগত পদক্ষেপ নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছাও অপরিহার্য।


