বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দু’জন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক একই সাথে দাবি জানিয়েছেন যে মো. সাহাবুদ্দিন চুন্নুকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। ৩ অক্টোবর দুপুরে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও কয়েক ঘণ্টা পর সমন্বয়ক সারজিস আলম তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এ দাবির কথা জানান। তাদের দু’জনের পোস্টেই মোট পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বাইরে বাকি চারটি দাবি হল- আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতকরণ, নতুন সংবিধান গঠন, আওয়ামী দুর্নীতিবাজ আমলাদের পরিবর্তন ও হাসিনার আমলে করা সব অবৈধ চুক্তি বাতিল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ বিবিসিকে বলেন, তারা সকলেই ওই দাবির সাথে একমত। তাঁর ভাষায়- একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হইছে। তাই, ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্ধারিত রাষ্ট্রপতি থাকলে তা যে কোনও সময় রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে।… এই কারণে আমরা মনে করি, ওনাকে সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সসম্মানে কিভাবে বিদায় দেওয়া যায়, সে- দিকটা নিয়ে ভাবা উচিত। উনি ফ্যাসিজমের একটি সিম্বল। সেই সিম্বলটা থাকা উচিত না। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রপতি চান তারা।
হাসিনা সরকার পতনের প্রায় দুই মাস পর কেন এখন এই দাবি তুলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন- এর আগেও তারা বলেছিলেন। তবে এখন তারা জোরালোভাবে বলছেন। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হয়। বাংলায় যাকে বলে অভিশংসন। তবে রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তখন আর সংসদ লাগবে না। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তাঁর দায়িত্ব কে পালন করবেন, বা কিভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ হবে তা নিয়ে আইনগত বিতর্ক আছে।


