উত্তর কোরীয় নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে আগ্রহী। একই সময়ে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার জন্যও প্রস্তুত রয়েছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের হোয়াইট হাউস সফরের প্রেক্ষাপটে।

লি জে মিউং তাঁর প্রথম হোয়াইট হাউস সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে কিম জং–উনের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছি। আমি এ বছরই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাই।” এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত পূর্ববর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছেন।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন উচ্চ শুল্ক থেকে মুক্তি পায়। তবে এখনও দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি, সামরিক ব্যয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত আলোচনা চলছে।

রয়টার্স উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যদিও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে ওয়াশিংটন কোরীয় উপদ্বীপ দখল এবং অঞ্চলটির দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে চায়।

ট্রাম্প ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় তার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি কূটনীতি শুরু হয়েছিল, তবে কোনো চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হয়নি। গত জানুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর পুনরায় সরাসরি কূটনীতি শুরু করার জন্য একাধিকবার কিমকে আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও কিম তখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি।

হোয়াইট হাউস সফরের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে আলাপ করেন। সাংবাদিকদের সামনে লি বলেন, বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য তিনি ট্রাম্পের ১৯৮৭ সালের স্মৃতিকথা ‘ট্রাম্প: দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ বইটি পড়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ট্রাম্প কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনবেন এবং কিম জং–উনের সঙ্গে বৈঠক সফল হবে।

লি আরও উল্লেখ করেন, তিনি ট্রাম্পকে অক্টোবরে আয়োজিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যেখানে ট্রাম্প চাইলে কিম জং–উনের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া উভয় নেতা জাহাজ নির্মাণ, হত্যাচেষ্টা প্রতিরোধ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও প্রেসিডেন্ট লি সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা আরোপ সত্ত্বেও দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে বছরে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতা রাখে।

এই বৈঠক ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনীতি পুনরায় উত্তেজনার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের উদ্যোগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণ কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন