” … জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা এবং জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জামায়াত-শিবিরের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বলা যায়, জামায়াতে ইসলামী তাদের পুনরুজ্জীবনের সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে।
… জুলাই অভ্যুত্থানে সব পক্ষের মতো জামায়াত-শিবিরেরও জোরালো ভূমিকা থাকায় একাত্তর প্রশ্নটি নিয়ে তখন কেউ ঘাঁটায়নি। ছাত্রনেতারাও জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা সমালোচনা থেকে দূরেই ছিলেন।
কিন্তু এর মধ্যে তাঁদের কারও কারও বক্তব্য বা লেখা বিতর্ক তৈরি করল। তাঁদের কেউ বললেন, মুক্তিযুদ্ধে এত লোক পাকিস্তানিরা মারে নাই। কেউ বললেন, রবীন্দ্রনাথের গানকে জাতীয় সংগীত করা ঠিক হয়নি।
… এসব কারণ সম্প্রতি এনসিপিপন্থী নেতাদের তীব্র জামায়াত বিরোধিতায় উদ্বুদ্ধ করেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে শাহবাগে জামায়াতপন্থীদের জাতীয় সংগীতের বিরোধিতা এবং গোলাম আযমকে নিয়ে বিতর্কিত স্লোগান।
এই ঘটনা ছিল সবার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট বা সন্ধিক্ষণমুহূর্ত। এ ঘটনার মধ্য দিয়েই একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিষয়টি আবারও আলোচনা-সমালোচনার ইস্যু হয়ে উঠল রাজনীতিতে। অভ্যুত্থানপন্থী ছাত্রনেতারা বা এনসিপি এ ব্যাপারে বিবৃতিও দিল…একাত্তরে যাঁরা জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, তারা অবস্থান ব্যাখ্যা করবে (এই আহ্বান জানিয়ে)।
… চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা লেখক-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব ফরহাদ মজহার যুগান্তরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জামায়াতে ইসলামী নামে বাংলাদেশে রাজনীতি করা উচিত না। এটা আমাদের এই বাংলাদেশের তার যে জাতিগত সত্তা, বাংলাদেশের যে ইতিহাস, এটা কিন্তু তার বিরোধী। কেন? কারণ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইকে সমর্থন করে নাই।’
… সরকারের উপদেষ্টা ও জুলাই বিপ্লবের আরেক মুখ্য সংগঠক মাহফুজ আলম সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। যে বক্তব্যের পর জামায়াত–শিবির মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মাহফুজ বলেছেন, ‘৭১-এর প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। ইনিয়ে-বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান বন্ধ করতে হবে।’
… সব মিলিয়ে বলা যায়, জামায়াতে ইসলামী এখন ব্যাকফুটে।…একাত্তর প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। এখন সেই প্রশ্ন আবারও জোরালো হওয়ায় তাদের অগ্রগতি কিছুটা মন্থর হতে পারে।
তবে মনে হয়, জামায়াতে ইসলামী সম্ভবত তাদের নিজস্ব রাজনীতিই করে যাবে। একাত্তর প্রশ্নের সমাধান তারা কীভাবে করবে বা আদৌ করবে কি না, সেটির ওপরও নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছু।”


