ঈশ্বরের ভূমিকা নিতে চাচ্ছেন – এলন মাস্ক

“এই টেক বিলিয়নিয়ার মানবজাতির এমন ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চাচ্ছেন যেখানে মুষ্ঠিমেয় গোষ্ঠী ছাড়া সবার জন্য জায়গা নেই : চার্লি ওয়ারজেল এবং হানা কিরোস

এলন মাস্ক দাবি করেন, তিনি “লংটার্মিজম” নামক একটি ভবিষ্যতমুখী দর্শনের সঙ্গে একমত। এই মতবাদ অনুসারে, দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষাপটে মানবজাতির সর্বোচ্চ মঙ্গল সাধনের কৌশল খোঁজা হয়। এই দর্শনের মূল স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে মহামারী প্রতিরোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবস্থাপনা।

মাস্কের বহুদিনের স্বপ্ন হলো মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়া, এটাকে তিনি একটি সভ্যতাগত প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেন, “জীবনের জন্য জীবন বীমা” বলে। তার যুক্তি হলো, পৃথিবী যদি একদিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে অন্য গ্রহে মানুষের টিকে থাকার ব্যবস্থাই মানবজাতির বাঁচার একমাত্র উপায়।

মাস্ক সমর্থিত এক লংটার্মিস্ট বিশ্বাস করেন এই পরিকল্পনার মাধ্যমে অজস্র ভবিষ্যতের প্রাণ রক্ষা পাবে, যারা না হলে জন্মই নিত না। এ বিষয়টি মাস্কের বিশেষ আগ্রহের কারণ, কারণ তিনি মনে করেন জন্মহার কমে যাওয়া মানবজাতির জন্য ভয়ংকর হুমকি। তবে মাস্কের আচরণ ও ভাষ্য তার এই আদর্শের সমতাভিত্তিক নীতির সঙ্গে মেলে না।

একজন পরিচিত প্রোনেটালিস্ট (যিনি জন্মবৃদ্ধি আন্দোলনের প্রবক্তা), যাকে মাস্ক সরাসরি প্রচার করেছেন, বলেছেন এই আন্দোলনের চিন্তাভাবনা ইউজেনিক্সবাদীদের (জেনেটিক উৎকর্ষবাদীদের) সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাস্ক দেখা করেছেন এমন দুজন প্রোনেটালিস্টের পরিকল্পনায় রয়েছে একটি ভবিষ্যতের শহর-রাষ্ট্র, যেখানে “জিনগতভাবে নির্বাচিত মানুষ” থাকবে এবং যেখানে “অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর সন্তান উৎপাদনের” ভিত্তিতে ভোটাধিকার দেওয়া হবে।

মাস্ক এমন সব পোস্ট ছড়িয়েছেন, যেগুলোতে বর্ণবাদী আইকিউ তত্ত্ব প্রচার করা হয়। তিনি “হোয়াইট জেনোসাইড” নামে পরিচিত ডানপন্থী ষড়যন্ত্রতত্ত্বে আকৃষ্ট এবং এমনকি DEI (diversity, equity, inclusion), ট্রান্স অধিকার ইত্যাদিকে তার কল্পিত পশ্চিমা “সভ্যতা”-র জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গিতে, বিদেশে সহায়তা পাঠানো বন্ধ করা (যা তিনি সরকারের একজন সদস্য হিসেবে করেছেন) আসলে আমেরিকার অর্থ বাঁচায় এবং এই অর্থ পরে উন্নততর কাজে ব্যবহার করা যায়। তার মতে, “আমেরিকা হলো সেই মূল স্তম্ভ, যা পুরো সভ্যতাকে ধরে রেখেছে।”

এই যুক্তির ভিত্তিতে, বৈশ্বিক সহায়তা কমিয়ে যে অর্থ সাশ্রয় হয়, তা আমেরিকানদের কল্যাণে ব্যয় করা যায়। এতে তারা পশ্চিমা সভ্যতার অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে, বিশেষ করে প্রোনেটালিস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে, যা “সুবিধাপ্রাপ্ত”, “উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন”, বিশেষত শ্বেতাঙ্গদের আরও বেশি সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করে।

তাহলে দক্ষিণ সুদান বা সোমালিয়ার লোকজন মারা গেলে কী আসে-যায়? এই হলো সেই ধারণা, লেখেন ওয়ারজেল ও কিরোস। মূল বিষয় হলো, কেবল পশ্চিমা সভ্যতাই বেঁচে থাকবে এবং নিজেদের মহাবিশ্বে ছড়িয়ে দেবে।

“কিন্তু মাস্ক যতই আমাদের দৃষ্টি মহাকাশে সরাতে চান, পৃথিবীতে এখন ভয়ানক কিছু ঘটছে। “বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সাহায্য বন্ধ করে দিচ্ছেন। তাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়ে অন্য এক স্বপ্নময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন