ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোর হাসপাতালগুলো জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক সরকারি হাসপাতালে সীমিত সেবা মিলছে, বিশেষ করে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ডের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ঈদের সময় জরুরি বিভাগ চালু রেখেছে। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিদিন ১৫০ জন চিকিৎসক, ৫০০ জন নার্সসহ এক হাজারের বেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস স্বল্প পরিসরে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগ চালু রাখা হয়েছে, তবে বহির্বিভাগ তিনদিন বন্ধ থাকবে।
বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালগুলোও চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগ ঈদের ছুটিতে পাঁচদিনের জন্য চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছে। বিভাগের প্রধান ডা. সফুরা খাতুন জানিয়েছেন, মিড-লেভেল ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের রোস্টার তৈরি করা হয়েছে, যাতে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা যায়। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, হাসপাতালের ৩৮২ জন কর্মীর একটি রোস্টার তৈরি করা হয়েছে, যাতে জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকে। শুধুমাত্র বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও জরুরি সেবা চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, অপারেশন থিয়েটার চালু থাকবে এবং জরুরি বিভাগের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ঈদের ছুটিতে চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়, বিশেষ করে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া জরুরি হলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে হবে।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের বহির্বিভাগ তিনদিন বন্ধ থাকলেও জরুরি ও অপারেশন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সচল থাকবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৮ মার্চ একটি নির্দেশনা জারি করে, যেখানে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ১৬ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাব সার্বক্ষণিক চালু রাখা, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে জরুরি বিভাগ চালু থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার চলবে। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য শিফট অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যাতে ভর্তি থাকা রোগীদের সেবায় কোনো সমস্যা না হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতি কম থাকে, জরুরি বিভাগের সেবা বাধাগ্রস্ত হয় এবং ওষুধের সংকট দেখা দেয়। অনেক সময় রোগীদের অভিযোগ থাকে যে, গুরুতর অবস্থায়ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পান না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাসপাতালগুলোর তদারকি বাড়ানো উচিত যাতে কোনো হাসপাতালেই জরুরি সেবা বিঘ্নিত না হয়।স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকেও যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবাকে সচল রাখতে হাসপাতালগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে, বিশেষ করে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পেতে সমস্যায় পড়েন। হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা প্রয়োজন, যাতে জরুরি রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীরাও প্রয়োজনীয় সেবা পান।


