জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সীমিত জনবল ও অতীতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কমিশনের নিজস্ব জনবল অত্যন্ত সীমিত। একদিনে ১০ লাখের বেশি কর্মকর্তা প্রয়োজন হয়, যাদের সরকার থেকে ধার নিতে হয়, ফলে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মঈন খান এ উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা সিইসির কাছে জানতে চেয়েছি, নির্বাচনের দিন মাঠে যারা কাজ করবেন তারা কারা, তাদের নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশনের নিজস্ব জনবল না থাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।”
গত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, “আমরা দেখেছি অতীতে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। যেসব কর্মকর্তা বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন, তারা ১৫ মাসে বদলে যাবেন—এটা বাস্তবসম্মত নয়।” তিনি কমিশনকে অনুরোধ করেন যেন বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে না রাখা হয়।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষ নির্ভয়ে বাস করুক, ১২ কোটি ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিক, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারুক।” পাশাপাশি নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
জোট রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ সালে জামায়াতের সঙ্গে প্রাক-নির্বাচনী জোট হয়েছিল, এবারও বিএনপি ‘ওপেন’ আছে এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে।
এছাড়া সাধারণ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। আচরণবিধি ও জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনীর বিষয়ে বিএনপি আগেই প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান মঈন খান। বৈঠকে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন।


