কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ৪০০ মিলিয়ন ডলারের কেন্দ্রীয় অনুদান ও চুক্তি বাতিল করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তারা বলছে, ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানি থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হয়ে ওঠে, তার একটি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয় বলতে গেলে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
গত বছরের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেন। তাদের টানা ইসরায়েলবিরোধী কর্মসূচিতে আকৃষ্ট হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পাসেও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ইহুদিবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, এ নিয়ে রাজনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছে আজও। রিপাবলিকানরা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবেই দেখে। যদিও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইহুদিরাও ছিলেন। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে ফিলিস্তিনপন্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন- “ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো হবে। অপরাধ বুঝে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল শিবির মনে করে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদারপন্থী প্রভাবিত। তাদের মতে, এখনই সময় এই প্রভাব খর্ব করার। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসার পর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর খড়গহস্ত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নিল, যখন ইসরায়েল ও গাজায় তাদের আগ্রাসনের সমালোচনাকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি নতুন শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি। নিউ ইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয়টির এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


