গাজায় গণহত্যা ও লেবানন, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ক ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছে। অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে দেশটির কিছু উগ্র নেতার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। খাদ্য সহায়তা আটকে দিয়ে উত্তর গাজাকে জনশূন্য করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। খাবার বন্ধ হবার এক সপ্তাহের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা এই অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হবে, এই হচ্ছে পরিকল্পনা। জবাবে বাইডেন প্রশাসন ৩০ দিনের মধ্যে গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলকে। না করলে সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলের এক সপ্তাহের পরিকল্পনা থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের এক মাস সময় দেওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি ইইউ। বৃহস্পতিবার ইইউ নেতৃবৃন্দের সম্মেলনের আগে এ ব্যাপারে সমালোচনা করেন পররাষ্ট্র নীতি প্রধান জোসেপ বরেল। সম্প্রতি লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের উপর বেশ কিছু হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। হামলার বিরুদ্ধে ইইউ রাষ্ট্রগুলো থেকে নিন্দার ঝড় উঠে। ১১ অক্টোবর ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন সম্মিলিত বিবৃতিতে ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করে। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার সমালোচনা করায় জাতিসংঘ ও এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার এই বক্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানান বরেল।
ফ্রান্স এর আগে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য দেশকে একই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মে মাসে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আনা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকেও সমর্থন জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলের সহিংসতার মাঝে গত শুক্রবার লেবানন সফর করেন ইতালির প্রেসিডেন্ট জর্জিয়া মেলোনি। তিনিও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলের তৃতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল ইতালি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত বুধবার জানান, দুজন ইসরায়েলি মন্ত্রীকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তার প্রশাসন। সে দুজন হচ্ছেন- ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মট্রিচ।
গতবছর ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইইউ ঢালাওভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়। তবে গত এক বছরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড অনেক ইউরোপীয় দেশেই মতভেদ তৈরি করেছে। গাজায় গণহত্যার মাঝে গত মে মাসে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে একসঙ্গে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স, ইতালির মতো দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের মতো অনেক দেশ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলেও দুএক প্রসঙ্গে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। তবে জার্মানি এখনো ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ অস্ত্র সহায়তা দেয় জার্মানি। ইসরায়েলে মোট অস্ত্র সরবরাহের ৩০ শতাংশই আসে জার্মানি থেকে।


