সম্প্রতি ইরান ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর থেকে ইরানি জনগণের মধ্যে গর্ব, ভয় এবং অনিশ্চয়তার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জনসাধারণের উল্লাস এবং ইসরায়েল-বিরোধী স্লোগানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, কিন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ইরানের জনগণের ভিতরকার অভ্যন্তরীণ বিভেদকে সামনে নিয়ে এসেছে। এমনিতেই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার প্রতি অনেক ইরানির অসন্তোষ আছে, তাছাড়া ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়েও জনগণের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
একদিকে, জাতীয়তাবাদী এবং ইরানি সরকারের সমর্থকরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই হামলাকে সাহসী প্রতিশোধ হিসেবে উদযাপন করেছে, যা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণের প্রতিশোধ। তবে, অনেক ইরানি এই সংঘাতের পরিণতি নিয়ে শঙ্কিত, বিশেষ করে ইসরায়েলের সাথে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা যা ইরানের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করতে পারে এবং সংস্কারপন্থী আন্দোলনগুলোকে আরও দমন করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে বাড়িয়ে তোলেনি, বরং অনেক ইরানির মধ্যে একটি নতুন দুর্বলতার অনুভূতি জাগিয়েছে।
ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিশোধের ভয়, বিশেষ করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর উপর হামলার আশঙ্কা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই উদ্বিগ্ন যে এই উত্তেজনা আরও বাড়লে সরকারকে প্রতিবাদ এবং মতবিরোধকে দমন করার নতুন অজুহাত দেবে, যেমন “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে, যদিও অনেকেই মনে করেন যে ইরানের ভবিষ্যত অবশ্যই দেশের ভেতর থেকেই নির্ধারিত হওয়া উচিত, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই।


