ইরান ও ইসরায়েলের সংঘর্ষে নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। এর জেরে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যাপক ধাক্কা খাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পথটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে তেহরানের পক্ষ থেকে।
যদি সত্যিই বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি সারা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরই পড়বে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব।
বিশ্বজুড়ে নতুন করে বাড়িয়ে তুলতে পারে মূল্যস্ফীতি। এর আঁচ এড়াতে পারবে না বাংলাদেশও। কারণ কাতার থেকে কেবল হরমুজ প্রণালি দিয়েই এলএনজি আমদানি করতে হয়।
বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। ইরানের উপকূল ঘেঁষা সরু এ চ্যানেল সংযুক্ত করেছে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে।
শুধু ইরানই নয়, পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে এ পথের ওপর।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক পথ দিয়ে দৈনিক দেড় কোটি ঘনমিটারের মতো এলএনজি পরিবাহিত হয় বলে ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়নের (আইজিইউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি করে, যার সিংহভাগই আসে এ পথে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) এক প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের যা প্রায় ২১%। আর এলএনজি-র বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ২০% পরিবাহিত হয় এ রুটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ হলে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১০০ থেকে ১৩০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। রয়টার্সের তথ্যানুসারে, ১২ জুন পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৭০ দশমিক ৪ ডলার। একদিনের ব্যবধানে তা ৭৮ দশমিক ৫ ডলারে উঠে গেছে।


