‘গাজায় গণহত্যা চলছে, ইরানে হামলা চালানো যাবে না, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এটি সৌদি শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আসা ইসরায়েলের প্রতি অন্যতম কঠোর সমালোচনা বলে জানিয়েছে বিবিসি। তিনি লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলি হামলারও সমালোচনা করেন। ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি ইসরায়েলকে সম্মান দেখাতে হবে বলে উল্লেখ করে যুবরাজ সালমান বলেন, ইসরায়েল অবশ্যই ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারবে না। এই বক্তব্য রিয়াদ এবং তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব লিগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) যৌথ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা ও লেবাননে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার সুরাহা করতেই এই সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সৌদি আরবের এই ‘ডি ফ্যাক্টো’ নেতা উপস্থিত অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলে পশ্চিম তীর এবং গাজা থেকে সকল ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ বিন সালমান আরো বলেন, আমরা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে শান্তিপ্রিয় দেশগুলোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।
এদিকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টিকে একটি অবাস্তব লক্ষ্য হিসেবে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বর্তমান সময়ে এটা কোনো বাস্তবসম্মত বিষয় নয়। আমাদের অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেটা হবে হামাসের রাষ্ট্র।’
সম্মেলনে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু, লেবাননের প্রেসিডেন্ট নাজিব মিকাতিসহ আরব লিগ ও ওআইসির সদস্যদেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


