“… আমেরিকা-ইসরায়েল সব সময়ই ইরানের সাথে যুদ্ধাবস্থায় ছিল। একের পর এক ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা করেছে। কঠোর অবরোধ দিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। একাধিক ঘটনায় ইরানের ভেতরে জনগণকে উস্কে সরকার পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছে।
মুখে হুমকি-ধামকি দিলেও সরাসরি হামলা যে এত বছর করেনি, তার কারণটাও একেবারে বেসিক কারণ। এত বছর দুই পক্ষের মধ্যে মিনিমাম একটা ব্যালেন্স অব পাওয়ার ছিল।
ইরান কখনও ইসরায়েলের উপর হামলা করেনি, কারণ তাদের হামলার জবাবে পাল্টা যে ভয়াবহ হামলা হবে, তাদেরকে যে ধ্বংস করে দেওয়া হবে, সেটা ঠেকানোর মতো শক্তি তাদের কখনোই ছিল না। সুতরাং আগ বাড়িয়ে নিজেদের ধ্বংস টেনে আনার কোনো যুক্তি তাদের ছিল না।
অন্যদিকে আমেরিকা-ইসরায়েল হামলা করেনি, কারণ ইরানের যদিও ইসরায়েলকে ধ্বংস করার মতো শক্তি ছিল না, কিন্তু তার প্রক্সিদেরকে দিয়ে আক্রমণ করিয়ে ইসরায়েলের, এবং সেই সাথে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করার সক্ষমতা ইরানের ছিল।
এখন যে হামলা করেছে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে, গত এক বছরে সেই ব্যালেন্স অব পাওয়ার ধ্বসে পড়েছে। গাযাকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে প্রথমে হেজবুল্লাহ’র পতন এবং এরপর সেই ধারাবাহিকতায় সিরিয়ার পতন ইরানকে গত অন্তত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল এবং ভালনারেবল করে তুলেছে।
ইরানের প্রক্সিদের যে ভয় এত বছর আমেরিকা-ইসরায়েলের ছিল, সেটা এখন নাই বললেই চলে। ফলে এটাই ছিল ইরানের উপর হামলা করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। নতুন করে ইরানকে শক্তিশালী হতে দেওয়ার আগেই। ইসরায়েল সেটাই করেছে।
ইরানের কি পাল্টা কিছু করার আছে? আমার মনে হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে করতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের তুলনায় তাদের ইন্টেলিজেন্স এত দুর্বল, আর আমেরিকার তুলনায় তাদের সামরিক সক্ষমতা এত দুর্বল, হম্বিতম্বি আর শো অব ফোর্স ছাড়া বাস্তবে তাদের খুব বেশি কিছুর সক্ষমতা নাই।
ইরানও সেটাই পারবে। সিম্বলিক কিছু হামলা করতে পারবে। সেটা তারা অবশ্যই করবে। তাদেরকে করতে হবে। ইসরায়েলের উপর বড় আকারের কোনো হামলা করার বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার সক্ষমতাও অবশ্য ইরানের আছে, সেটা তারা এর আগে দেখিয়েছে; কিন্তু সেটার প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের পুরোপুরি ধ্বংস টেনে আনার মতো বোকামি তারা করবে বলে মনে করি না।
হ্যাঁ, আমেরিকা-ইসরায়েল কোনো দেশ দখল করে লংটার্মে সেখানে জিততে পারে না। কোনো দেশই পারে না। কিন্তু উপর থেকে বোমা ফেলে সব তামা তামা করে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের এখনও কোনো জুড়ি নাই। আমেরিকার শক্তিমত্তা কমে আসছে, কিন্তু এখনও যে তারা একক সুপারপাওয়ার, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। সেটা না হলে গাযার গণহত্যা এতদিন চলতে পারত না। এই হামলার মধ্য দিয়ে মোসাদ আবারও তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করল। …”


