ইরান তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাটি বানিয়েছে মাটির ১০০ মিটার নিচে, যাতে এটি ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট ফ্যাসিলিটিটি মধ্য ইরানে জাগ্রোস পর্বতমালার পাশে অবস্থিত। ধারণা করা হয় যে মাটির নিচের এই ফ্যাসিলিটিতে তিনটি ভূগর্ভস্থ বিল্ডিং আছে যার মধ্যে দুটো বিল্ডিংয়ের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৫০,০০০ সেন্ট্রিফিউজ করে । এই স্থাপনাটি বিমান প্রতিরক্ষা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড দ্বারা সুরক্ষিত এবং সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ অনুসারে, সেখানে নতুন সম্প্রসারণ দেখা গেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে নতুন অংশটি আরও গভীরে নির্মাণ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও, প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে নাতাঞ্জকে ধ্বংস করতে সমস্যায় পড়বে। এমনকি মার্কিন এইট-৫৭/ই বাঙ্কার-বাস্টিং বোমাও, যা ৬০ মিটার পর্যন্ত মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারে, হয়তো এই স্থাপনায় পৌঁছাতে পারবে না।ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল হয়তো ইরানের পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে পারবে না, তবে পার্শ্ববর্তী পরিকাঠামো যেমন চুল্লি ও ইউরেনিয়াম উৎপাদনের স্থানগুলিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই আক্রমণগুলির জন্য জটিল অস্ত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য প্রয়োজন হবে এবং ইসরায়েলের সম্ভবত মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে ই-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশ, ইসরায়েলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পর। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শুধু পারমাণবিক অস্ত্রই নাতাঞ্জের মতো গভীরভাবে নির্মিত লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারে। এছাড়াও শঙ্কা রয়েছে যে ইরান গোপনে পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য গোপন স্থাপনাগুলি পরিচালনা করতে পারে, যা ইসরায়েল বা অন্য কোনো দেশের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করাকে বেশ কঠিন করে তুলবে।


