মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে হুতিদের নিশানা করে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার শুরু হওয়া এই ‘চূড়ান্ত ও শক্তিশালী’ হামলা কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও চলতে পারে। মার্কিন বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বন্ধ করা, অন্যথায় ‘নরক বৃষ্টির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া শিগগির বন্ধ করতে হুতিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরো ‘আবাসিক এলাকায়’ এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর মধ্যপ্রাচ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান এই হামলাই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। এমন এক সময়ে এই হামলা শুরু হলো, যখন নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এক দশকের বেশি সময় ধরে হুতিরা সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। ইয়েমেনের অধিকাংশ অঞ্চল বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে তারা ১০০ এর বেশি হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। হুতির নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঠানো ড্রোন জব্দ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল সামরিক অভিযান চালাতে হচ্ছে।
ইরানের মিত্রগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহ এরই মধ্যে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ গত ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু হুতিদের এখনো হামলার চালানোর মতো সক্ষমতা রয়ে গেছে। এবার ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হামলা চালাতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা।


