যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যে ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি সিরীয়কে মানবিক কর্মসূচির আওতায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সিরীয় শরণার্থীদের অপেক্ষমাণ সব আবেদন স্থগিত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সবচেয়ে বেশি সিরীয় নাগরিক রয়েছেন জার্মানিতে, যাঁদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ফ্রান্স আশ্রয়প্রার্থী সিরীয় নাগরিকদের আবেদনগুলো নিয়ে ভাবছে।
অস্ট্রিয়ার তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিরীয়দের সব আশ্রয় আবেদন স্থগিত করে দিয়েছে। দেশটি সিরীয়দের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বা বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় প্রায় ৯৫ হাজার সিরীয় নাগরিক আছেন। এদিকে, দেশে ফিরছেন লেবানন ও জর্ডানে নির্বাসিত হাজার হাজার সিরীয়। আবার সিরিয়া ছেড়ে ওই দুটি দেশে চলে যাচ্ছেন অনেকে। সেখানে থাকা বিবিসির এক সংবাদদাতা বলেন, লেবাননে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও অনেক সিরীয় নাগরিক দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। আসাদের পতনের পর বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ বাড়ার আশঙ্কায় সিরিয়া ত্যাগ করছেন তারা।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশি দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে ৪৯ লাখ সিরীয়। আর ১৩ লাখ মানুষ অন্যত্র পুনর্বাসিত হয়েছে, বেশিরভাগই ইউরোপে। তবে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত সিরীয় শরণার্থী রয়েছে প্রতিবেশী তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান ও ইরাকে। সিরিয়ার নিবন্ধিত শরণার্থীদের প্রায় অর্ধেক বা ৩১ লাখ তুরস্কে বসবাস করেন। প্রায় ৭ লাখ ৭৪ হাজার নিবন্ধিত সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লেবানন। অনিবন্ধিত শরণার্থীসহ এ সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। দেশটিতে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন সিরীয় শরণার্থী।
এরপর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটি প্রায় ৭ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।২০১৫-১৬ সালের অভিবাসী সংকট ইউরোপের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। সস্তা শ্রমিক পেলেও অভিবাসীদের আগমন দেশগুলিতে উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যাগত এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটায়। ডানপন্থী দলগুলি জনসাধারণের অভিবাসীবিরোধী উদ্বেগকে পুঁজি করে এবং অনেক দেশে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


