ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর তিন বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চান যুদ্ধবিরতি। তবে এজন্য তিনি দিয়েছেন কঠোর সব শর্ত। তিন বছর পর রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্রেমলিন দখলকৃত কোনও ভূখণ্ড ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “ক্রিমিয়া, সেভাস্তোপোল, খেরসন, জাপোরিঝিয়া, দনেৎস্ক ও লুহানস্ক—এগুলো রাশিয়ার অংশ। এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি স্থির সত্য।”
গত জুনে পুতিন বলেন, ইউক্রেন চারটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দিয়ে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করলে রাশিয়া সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করবে। তিনি চান, দখল করা ভূখণ্ডকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অনেকদিন ধরে বলে আসছেন, তারা নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড ছাড়বে না। তবে সম্প্রতি তিনি ভূখণ্ড ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পুতিনের জন্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ন্যাটোতে যোগদানকে দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যারান্টি হিসেবে দেখেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ একটি ‘বাস্তবসম্মত ফলাফল’ নয়। পরে তিনি এ সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ না দিলেও বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্যপদ সম্ভবত হবে না। ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়া পুনরায় জানিয়েছে যে তারা “কোনো অবস্থাতেই” ন্যাটো দেশগুলোর শান্তিরক্ষী বাহিনীকে ইউক্রেনের ভূমিতে মোতায়েন করতে দেবে না।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কেন শান্তিরক্ষী বাহিনীকে সম্মতি দেব… তারা এমন দেশগুলোর বাহিনী পাঠাতে চায়, যারা আমাদের শত্রু বলে ঘোষণা করেছে। তারা কি শান্তিরক্ষী হিসেবে আসবে?” ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো রুশ অর্থনীতি দুর্বল করেছে এবং দেশটির সামরিক খাতে বাধা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সরকারিভাবে ক্রেমলিন দাবি করেছে, সব নিষেধাজ্ঞা অবৈধ এবং সেগুলো তুলে নিতে হবে। রাশিয়া বিশেষভাবে ট্রান্সন্যাশনাল পেমেন্ট এবং গ্যাস ও তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতি আগ্রহী।
রাশিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, পশ্চিমে থাকা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ হয়ে থাকা। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেখানে এসব জমাকৃত সম্পদের সুদ ইউক্রেনকে সহায়তায় ব্যবহারের কথা বলা হয়। পুতিন এই কৌশলকে “চুরি” হিসেবে অভিহিত করেন। রাশিয়ার শর্তগুলোর মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ছোট করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


