“… ট্রাম্প যেন ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ছুতা খুঁজছিলেন।… সবকিছু দেখে মনে হতে পারে, এসব যেন ট্রাম্পের খামখেয়ালি ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে বাস্তবতা আরও গভীর। পশ্চিমা দেশগুলোর জনগণকে ভাওতা দেওয়ার জন্য এটি একধরনের রাজনৈতিক নাটক। এত দিন তাদের বলা হচ্ছিল যে রাশিয়া দুর্বল এবং সহজেই পরাজিত হতে পারে। এখন সেই গল্প পাল্টাতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সম্পদ ও ইচ্ছা আর নেই। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলেছেন। এখন আসলে ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দায় চাপানোর খেলাও চলছে, যাতে পশ্চিমা জনগণ আসন্ন পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকে।
… বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেন আগের চেয়ে ভালো কোনো সমাধান পাবে, এমন আশা নেই। ২০২২ সালের বসন্তে ইস্তাম্বুল আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইউক্রেন যে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেটাও এখন আর সম্ভব নয়। ২০১৫-১৬ সালের মিনস্ক চুক্তিও কার্যকর হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। তখন অন্তত ইউক্রেন দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকা নিয়ন্ত্রণের আশা করতে পারত। কিন্তু রাশিয়া এখন সেই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। … এখন দোষারোপের খেলা শুরু হয়েছে। তবে এই খেলা শুধু ট্রাম্পই খেলছেন না, ইউরোপীয় নেতারাও ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের কথা বলছেন। কিন্তু সেটার শর্ত সব সময় একড়যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে থাকতে হবে।
… ইউরোপীয় সহায়তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে। আর মার্কিন সমর্থন আসার সম্ভাবনা নেই। তাই ইউরোপীয় নেতারা সহজেই দোষ ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে ইউক্রেনের বিপর্যয়ের দায় এড়াতে পারবেন। এদিকে জেলেনস্কি চেষ্টা করছেন ইউক্রেনের জনগণকে এটা দেখানোর যে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছেন। তিনি পশ্চিমা সমর্থন পাওয়ার জন্য অপমান সহ্য করেছেন। কিন্তু দেশের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।… তিনি বলতে পারবেন যে ইউক্রেনকে পশ্চিমারা ফেলে দিয়েছে। তাই রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। … যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইউক্রেনড়সবখানেই এখন একটি অদ্ভুত খেলা চলছে। সবাই আসন্ন পরিণতি সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে রাজি নয়। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাস্তবতার চেয়ে সাজানো প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের কৌশলও এই প্রচারণানির্ভর রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। তথ্যযুদ্ধে তারা মস্কোকে পরাজিত করেছে। হয়তো সত্যকেও কিছুটা বদলে দিয়েছে। নানা মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা জনমত নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে পশ্চিমারা হেরে যাচ্ছে। “


