রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিরিদেনকো নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় কিয়েভের মন্ত্রীসভা ভবনের ছাদ ও ওপরের তলাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বেসামরিক মানুষদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন শিশু। এছাড়া ১৩ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার রাতের এই হামলায় রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলার মোট সংখ্যা ৮০০টিরও বেশি। এগুলো অন্তত ৩৭টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। কিয়েভের কিছু আবাসিক ভবনেও আগুন লেগে স্থানীয় মানুষের জন্য চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
কিয়েভের কেন্দ্র এলাকায় এত বড় ধরনের হামলার নজির আগে দেখা যায়নি। কারণ শহরে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা পূর্বে বেশ কার্যকরভাবে হামলা প্রতিহত করত। তবুও এই হামলায় তা বড় পরিমাণে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।
মস্কো হামলার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা একটি কৌশলগত বার্তা বহন করছে। তাদের মতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে বিরত রাখার জন্য এই হুমকি বার্তা পাঠিয়েছেন।
হামলার পরপরই কিয়েভের কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে সাম্প্রতিক এই ঘটনা যুদ্ধের জটিলতা ও নাগরিকদের ঝুঁকির মাত্রা আরও বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ পুনরায় কিয়েভের দিকে ফেরাচ্ছে।


