ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় আগামী ৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই শিশু। মঙ্গলবার বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই ভয়াবহ ভবিষ্যৎ-চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা তহবিলের ৪০%-এর বেশি সরবরাহ করত। মার্কিন সরকার এ বছরের শুরুতে সহায়তার পরিমাণ ৮৩% কমানোর ঘোষণা দেয়। মার্কিন সরকার বলেছে, অপচয় দূর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এটি।
গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের (আইএসগ্লোবাল) গবেষক ডেভিড রাসেল্লা সতর্ক করে বলেছেন, অর্থ সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপদগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় গত দুই দশকে যে অগ্রগতি হয়েছে তা এখন ঝুঁকিতে আছে। এই ঘটনাকে একটি মহামারির সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
গবেষণা বলছে, ইউএসএআইডির তহবিল বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোতে মহামারি ও দুর্ভিক্ষ রোধে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে এই তহবিলের আওতায়।
১৩৩টি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি অনুমান করেছে, ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করেছিল ইউএসএআইডি।
গবেষকদের অনুমান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে, যা প্রতিরোধযোগ্য। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৪৫ লাখের বেশি, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৭ লাখ শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এর ব্যাপকতা বোঝার জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথা ধরা যায়। ওই যুদ্ধে চার বছরে প্রায় এক কোটি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।
সরকারি তথ্য বলছে, গত বছর ৬১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা বিতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার অর্ধেকেরও বেশি ইউএসএআইডির মাধ্যমে।


