বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ক্রমবর্ধমান সংঘাত, মানবিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত বছর বিশ্বের এক চতুর্থাংশ দেশে নারীর অধিকার হ্রাস পেয়েছে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে এবং ১৯৯৫ সালে বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশনে নারীর অধিকার বিষয়ক একটি বিশ্বব্যাপী সম্মেলনের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। সম্মেলনটিতে ১৮৯টি দেশ লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর রূপরেখা দিয়ে একটি চুক্তি অনুমোদন করেছিল।
ইউএন উইমেন এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা বাড়ার সঙ্গে লিঙ্গ সমতার ওপর আঘাতও বেড়ে চলেছে। মূল বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের ঐকমত্যকে সক্রিয়ভাবে ক্ষুণ্ণ করছে (নারীর) অধিকারবিরোধীরা।’ জাতিসংঘের সচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী নারীর মানবাধিকার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সমান অধিকারকে মূলধারায় আনার পরিবর্তে, আমরা নারী বিদ্বেষকে মূলধারায় আনতে দেখছি।’ গত ৩০ বছরের দিকে ফিরে তাকালে বিশ্বজুড়ে নারী অধিকারের বিষয়ে অগ্রগতি দেখা গেলেও তা যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিশ্বব্যাপী পার্লামেন্টগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্বের হার আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে পুরুষ আইনপ্রণেতাদের সংখ্যা এখনও তিন-চতুর্থাংশ। ২০১০ থেকে স্বাস্থ্যসেবা এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার মতো সামাজিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত নারীর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও ২০০ কোটি নারী ও মেয়ে শিশু এর আওতার বাইরে রয়েছেন। আইনি অধিকারের বিবেচনায় ৮৮ শতাংশ দেশ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আইন পাস করেছে এবং পরিষেবা তৈরি করেছে। বেশিরভাগ দেশ নারীর প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং আরো বেশ কয়েকটি তাদের শিক্ষা ও জীবনের মান উন্নত করছে।
কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য একইরকম রয়েছে এবং নারীরা পুরুষদের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি ক্ষেত্রে বেতনহীন সেবার কাজ করেন। ইউএন উইমেন এর নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস বলেছেন, সংস্থাটি আশা করে যে প্রতিবেদনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ নির্ধারিত লিঙ্গ সমতা অর্জনের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি আসবে বিশ্ব।


