বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশের।
– ব্রাসেলসভিত্তিক থিংকট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন
`রাজ্যটিতে বৌদ্ধপ্রধান রাখাইন ও মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতময় সম্পর্ক ১৯৪২ থেকেই।
রোহিঙ্গা-রাখাইন সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও জাতীয় বাহিনীর রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহারের রাখাইনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
যদিও অধিকাংশ রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে জোরপূর্বক লড়েছে – তবে অনেকেই আছে, যারা স্বেচ্ছায় জাতীয় বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে রাখাইন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে লড়েছে।
এই বিষয়টি আরাকান আর্মিকে ক্ষুব্ধ করেছে। একই সঙ্গে, রাখাইন ও রোহিঙ্গা উভয় জনগোষ্ঠীর নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি আবারও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দিকে রূপ নিচ্ছে।`
`আরাকান আর্মি চটজলদি রাখাইন রাজ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, এতে সেখানে পুরোপুরি সার্বভৌম নয় এমন একটি আশা-রাষ্ট্র সৃষ্টি হবে।
এতদিন সরকারের সাথে কাজ করে অভ্যন্তরীণ বিদেশি সংস্থা ও রাষ্ট্র আরাকান আর্মির সঙ্গে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে কী না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে।
বিদেশি সরকারগুলো আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত, যাতে তারা উভয় পক্ষ সহযোগিতা করতে পারে এবং সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে চাপ প্রয়োগ করতে পারে। আর দাতাদের উচিত রাখাইন রাজ্যজুড়ে মানবিক কার্যক্রম সমপ্রসারণের উপায় খুঁজে বের করা।`
আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ করার সময় বাংলাদেশের উচিত, রোহিঙ্গাদের সাথে মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে, এই দাবি করা।
ঢাকার উচিত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব কমানো এবং একটি প্রকৃত রোহিঙ্গা নাগরিক আন্দোলনের সুযোগ তৈরি করা।
– ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন


