আওয়ামী লীগ সরকারের গত দেড় দশকে মানুষকে তুলে নিয়ে গুমের ঘটনায় ১ হাজার ৬০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে। এর মধ্যে ৪০০ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। এ কাজ করতে গিয়ে জোরপূর্বক মানুষকে তুলে নিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হতো, এমন ৮টি গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে তারা। কমিশনের ভাষ্যমতে, র্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি, সিটিটিসি, সিআইডি, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব গুমের ঘটনায় জড়িত। মঙ্গলবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, ‘আমরা শুনেছি, আয়নাঘর, যেটা দ্বারা আমরা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারকে বুঝতাম, এর চেয়েও নিকৃষ্টতম সেল আমাদের কাছাকাছি জায়গাতেই ছিল। আমরা সেগুলো পরিদর্শন করেছি।’ ওই গোপন বন্দিশালাটি র্যাবের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো বলে জানান মানবাধিকারকর্মী নূর খান। কমিশনের সভাপতি বলেন, ‘আয়নাঘর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। র্যাব-১ এটাকে বলে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেল, ডিজিএফআইয়ে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল। বিভিন্ন বাহিনীর অধীন বিভিন্ন জায়গায় আরও কিছু সিক্রেট ডিটেনশন সেন্টার আছে।’
কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন- যে ৪০০টি ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সেখানে ১৭২টি ঘটনায় র্যাবের সম্পৃক্ততা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সম্পৃক্ততা ৩৭টিতে, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৫৫টিতে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ২৬টিতে এবং পুলিশের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে ২৫টিতে। এর বাইরে সুনির্দিষ্ট কোনো বাহিনীর পরিচয় না দিয়ে প্রশাসনের লোক বা সাদাপোশাক পরিহিত অবস্থায় থেকে কাউকে তুলে নিয়েছে, এমন ৬৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে।


