বাংলাদেশে সবজির র্যাংকিং করা হলে সেখানে আলুর অবস্থান শীর্ষে থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যান্য সবজি থেকে দামে সস্তা হওয়ায় নিম্নবিত্তদের পাতের শেষ ভরসার অন্যতম এই আলুই। আলু চারশ বছর আগেও বাংলাদেশ বা এর আশেপাশে কেউ চোখে দেখেনি। এর নামও জানতো না অনেকে। বিশ্ব জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার মতে, সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে পর্তুগিজ নাবিকরা ভারতবর্ষে প্রথম আলু নিয়ে আসে বলে ধারণা করা হয়। পর্তুগিজরা দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় আলু বোঝাই করে নিয়ে আসতো। কারণ আলু সহজে পচে না। সেদ্ধ করেই খাওয়া যায়। পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ। এই ইউরোপীয় বণিকদের মাধ্যমে আলুর বিষয়ে ভারতের মানুষ প্রথম জানতে পারে। কিন্তু আলুকে ভারতবর্ষের সর্বত্র ছড়াতে কাজ করেছিল ইংরেজরা।
সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষ তথা বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর দায়িত্বে থাকাকালে নিজ উদ্যোগে আলুর চাষ করেছিলেন। তিনি মূলত চেয়েছিলেন ভারতে কম দামে আলু চাষ করে ইউরোপে বিক্রি করতে। তার হাত ধরে ভারতের পশ্চিম উপকূলের শহর মুম্বাই বা তৎকালীন বোম্বেসহ অনেক প্রদেশে আলুর চাষ বিস্তার লাভ করে। যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে উত্তর ভারত ও বাংলায় ব্রিটিশরা আলুর প্রচলন করেন।
আলু অল্প জমিতে বেশি ফলন হয় এতে কৃষকরা লাভবান হন। আবার দামে কম হওয়ায় ভোক্তারাও কিনতে পারেন। এছাড়া আলু খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণও ভাতের চাইতে বেশি। তাই আলু সারা দেশের মানুষ গ্রহণ করেছে। আলু ইউরোপীয়দের নজরে আসে ষোড়শ শতকে। ১৫৩২ সালে স্পেনের নাবিকেরা দক্ষিণ আমেরিকায় আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। স্প্যানিশ আক্রমণে ইনকা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। স্প্যানিশরা পেরুতে এসেছিল মূলত স্বর্ণের খোঁজে। আন্দিজ পর্বত এলাকায় স্থানীয়দের আলুর আবাদ তাদের চোখে পড়ে।


