বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের আবারো বলেছেন-“আমি গাজা কিনতে ও এর মালিকানা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যতদূর সম্ভব আমরাই পুনর্গঠন করবো, কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকেও দিতে পারি, আমাদের আশীর্বাদে অন্যরাও এটা করতে পারে। কিন্তু আমরা এটির মালিকানা, দখল নিতে এবং হামাস যেন ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর।” তিনি আরো বলেন, “সেখানে ফিরে যাওয়ার কিছু নেই। জায়গাটি এখন ধ্বংসস্তূপ। যেটুকু বাকি আছে তাও ভেঙে ফেলা হবে। সবই ধ্বংস হয়ে গেছে।”
গাজা কেনা ও এর মালিকানা নিতে চাওয়া ট্রাম্পের সর্বশেষ এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এজজাত আল রাশক এক বিবৃতিতে বলেছেন-“গাজা কেনাবেচার সম্পত্তি নয়, এটা আমাদের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ।ফিলিস্তিনিরা তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেবে।” এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সৌদি আরবের ভেতরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরামর্শকে উপহাস করেছেন দেশটির শুরা কাউন্সিলের সদস্য ইউসুফ বিন ত্রাদ আল-সাদুন। এর পরিবর্তে ইসরায়েলের জনগণকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে এবং ‘দখল’ করার পর গ্রিনল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়া উচিত বলে প্রস্তাব করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ওকাজে লেখা এক প্রবন্ধে আল-সাদুন এই প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বেপরোয়া সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে সৌদি সরকার বলেছে -‘সৌদি আরব এটা নিশ্চিত করছে যে, নিজেদের ভূমিতে ফিলিস্তিনি মানুষের অধিকার রয়েছে। আর তাঁরা এখানে কোনো অনুপ্রবেশকারী বা অভিবাসী নয় যে নিষ্ঠুর ইসরায়েলি দখলদারেরা ইচ্ছা হলেই তাঁদের তাড়িয়ে দিতে পারবে।’ অন্যদিকে, সরকারি কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেতজ জানিয়েছে – নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যেতে চান না। গাজায় আবারো যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।


