একটা অগণতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানোই যথেষ্ট নয়; নতুন করে যাতে ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সেটার নিশ্চয়তা দরকার।ফ্যাসিবাদের উত্থানের সঙ্গে অর্থনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একটা দেশে যখন দেশপ্রেমিক বুর্জোয়ার বদলে লুম্পেন বুর্জোয়ারা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে যায়, তখন সেখানে গণতন্ত্র থাকে না। …নানা তরফ থেকে বিভিন্ন পরিবর্তন বা সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও সমাজ পরির্বতন বা অর্থনীতি-রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তনের কোনো কথা কেউ বলছে না। এর ফলে আমি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব আশাবাদী নই।…বাংলাদেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য হলো পেন্ডুলাম বা ঘড়ির দোলকের মতো; একবার ডান দিকে যায় আবার বাঁ দিকে যায়। কখনো দেখা গেছে, আমরা সেক্যুলার উৎসব বা অনুষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। আবার কখনো আমাদের মধ্যে ধর্মীয় আচার-আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
… এর মানে হলো আমাদের দেশের মানুষের যে বিশ্বাস বা চৈতন্যের জগৎ, সেটা এখনো নড়বড়ে অবস্থায় আছে। এর কারণ হলো আমাদের নেশন বিল্ডিং বা জাতি গঠনের যে সমস্যা, সেই সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি। এর ফলে ব্রড (বড়) ইস্যুগুলোতে জাতি হিসেবে দল-মতনির্বিশেষে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি।
নেশন বিল্ডিংয়ের কাজটা সহজ বা খুব তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের বড়মাপের নেতৃত্বের প্রয়োজন। রাজনীতিকে আরও গভীর করা প্রয়োজন। শুধু স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতি দিয়ে এটা হবে না।


