দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে — বাংলাদেশ বর্তমানে ধীরে ধীরে এক ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে। আমদানি কমে যাওয়া এই সংকটের বড় ইঙ্গিত।
গত তিন অর্থবছরে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আমদানির পরিমাণ ২০২২ সালে ছিল ৮২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, ২০২৩ সালে কমে ৭১ বিলিয়নের নিচে এবং ২০২৪ সালে মাত্র ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
দেশের আমদানি শুধু ভোগের জন্য নয়, বরং উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য খুবই জরুরি। কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বিদেশ থেকে আসে। এই আমদানির ওপরই তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক, খাবার ইত্যাদি শিল্প নির্ভর করে। ফলে আমদানি কমলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কমে যায়।
এবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৩.৯৭ শতাংশে, যা কোভিডের পর সবচেয়ে কম। বিনিয়োগ নেই, ব্যবসার আত্মবিশ্বাস কম, ঋণপ্রবাহ স্থবির। এর ওপর রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে চাহিদা হ্রাস, সুদের হার বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট ও এলসি খোলার জটিলতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব কারণে তারা নতুন বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন।
এই সংকট মোকাবেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


