মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ড. সেলিম রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক
বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। এবছর পঞ্চম দফায় বাড়ছে নীতি সুদহার। দেশে কয়েক বছর ধরে চলছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। অর্থের জোগান কমিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে চাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই নীতি সুদহার বারবার বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদি ধার দেয়, সেটিই হচ্ছে রেপো সুদহার। নীতি সুদহার বাড়ানোর প্রভাবে ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার বাড়ে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটি ভূমিকা রাখলেও এর প্রভাবে একদিকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে কমছে ঋণপ্রবাহ।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সুদহার বাড়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২০ জুলাইয়ে ব্যাংক ঋণের গড় সুদহার ছিল ৭.৭৯ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ১১.৫৭ শতাংশ। এক বছর আগে ব্যাংক ঋণে সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৯ শতাংশ। বর্তমানে কোনো কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ শতাংশ সুদহার রয়েছে। সব ব্যাংক মিলিয়ে ঋণের গড় সুদহারও ক্রমেই বাড়ছে। নীতি সুদহার আরেক দফা বাড়ানোয় ব্যাংক ঋণের সুদহারও আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান সমকালকে বলেন- ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। শুল্কহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মনে হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এমনটি হলে দ্রুত চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করতে হবে। মুদ্রানীতিতে সুদের হার বাড়ানোর চেয়ে এ বিষয়গুলোতে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।’


