মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে তাদের প্রতিরক্ষা দৃঢ় ছিল। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, জেক সুলিভান বলেছেন, আক্রমণটি অকার্যকর ও ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা, যারা ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছেন তারা এয়ারবেসে কমপক্ষে ৩২টি সরাসরি আঘাত লক্ষ্য করেছেন। কোনোটিই বড় ধরনের ক্ষতি করেনি বলে মনে হয়, কিন্তু কয়েকটি হ্যাঙ্গারের কাছাকাছি আঘাত করে যেখানে ইসরায়েলের সবচেয়ে মূল্যবান সামরিক সম্পদের একটি F-35 জেটগুলি থাকে। তার মানে ইসরায়েলের আয়রন ডোম এবং এয়ার ডিফেন্সের নজিরবিহীন কার্যকারিতা সত্ত্বেও, ইরানের হামলা ইসরায়েলের দাবির চেয়ে বেশি সফল ছিল। ইসরায়েলি বিখ্যাত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্ভেদ্য নয়।
‘আসল ব্যাপার হল ইরান প্রমাণ করেছে, চাইলে তারা ইসরায়েলকে ভালভাবেই আঘাত করতে পারে-‘ লিখেছেন ডেকার ইভেলেথ, সিএনএর একজন বিশ্লেষক, যিনি একটি ব্লগপোস্টের জন্য স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেন। ‘এয়ারবেসগুলি কঠিন লক্ষ্যবস্তু-এমন লক্ষ্য যেখানে আঘাত সম্ভবত অনেক হতাহতের কারণ হবে না। ইরান ভিন্ন লক্ষ্য বেছে নিলে – ধরুন, একটি ঘনবসতিপূর্ণ IDF স্থল বাহিনীর ঘাঁটি, অথবা একটি বেসামরিক এলাকার মধ্যে একটি লক্ষ্য – সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিপুল সংখ্যক [হতাহত] সৃষ্টি করবে।’ যদিও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভূমিতে প্লেনগুলিকে আঘাত করতে পারেনি, তবুও তেল আবিবের মতো একটি শহরে বা হাইফার কাছে বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হামলার শিকার হলে তার ফলাফল মারাত্মক হবে।
ইসরায়েলের জন্য আরেকটি সমস্যা হল ইরানীদের সাথে দীর্ঘ পাল্টাপাল্টি হামলার অর্থনীতি। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল এবং তার স্টক সীমিত, যার অর্থ দেশটি চলমান ইরানী হামলার সামনে দুর্বল হতে থাকবে। ‘ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ইরানে আঘাত করার জন্য প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে – এটি সম্ভবত শেষবার না যে আমরা ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় দেখতে পাব’ লিখেছেন এভেলেথ। ‘উদ্বেগের বিষয় হল, পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাবার সামর্থ্য ইসরায়েল রাখবে কিনা, যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়।’ দীর্ঘমেয়াদে, ইসরায়েল হামলা ঠেকাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন লাইন এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণ আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। Ynet, ইসরায়েলি নিউজ আউটলেট জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিলা আগামী দিনের মধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছাবেন আশা করা হচ্ছে। জো বাইডেন এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুলিভান বলেছেন যে তারা ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে সরাসরি পরামর্শ করবে। এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়েছে যে ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়া আসন্ন, সম্ভবত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার বার্ষিকীর ঠিক আগে বা পরে নির্ধারিত হবে। লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক স্থাপনা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সামরিক সাইট বা কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র – এবং তেল শোধনাগারের মতো জ্বালানি অবকাঠামো, যা ইসরায়েলের উপর একই ধরণের হামলার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাতে হামলাও একটা বিকল্প, যা তেহরান সতর্ক করেছে তার একটি লাল-লাইন এবং যা বাইডেন নেতানিয়াহুকে না করার জন্য সতর্ক করেছে। ‘এটা ভাবা কঠিন যে ইসরায়েল প্রতীকী এবং সীমিত আক্রমণ করবে, কারণ এটি এপ্রিলেই করেছে এবং ইসরায়েলকে এখন এপ্রিলে যা করেছিল তার চেয়ে এক বা কয়েক ডিগ্রি বেশি কিছু করতে হবে-‘ আলি ওয়ায়েজ, এনজিও ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক, বলেন, সংস্থার পডকাস্ট হোল্ড ইওর ফায়ারের সাম্প্রতিক পর্বে। তিনি ‘ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আদানপ্রদান সম্পর্কে সতর্ক করছিলেন যা যে কোনও মুহুর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
বাড়িয়ে সংঘাতের মাত্রাকে তরান্বিত করতে পারে, যার পরিণতিতে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে ফেলতে পারে’ – যার কারণে ইরানের মিত্ররা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এবং ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করবে। হামলায়, ওয়ায়েজ বলেছিলেন, ইরান ‘তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে এবং তাদের কাছে কয়েক মাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এমন একটি বিশ্বে আমরা বাস করব যদি না কেউ এই সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির চক্রটি বন্ধ করে।’ ‘এই ক্ষমতা আছে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির, যার ট্র্যাক রেকর্ড আমাদের খুব বেশি আশা দেয় না।’ নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইসরায়েলের জন্য তার পারমাণবিক কর্মসূচির মতোই বিপজ্জনক।


