আপনি কি জানেন , কোন কোন অভ্যাস আপনার কিডনির জন্য ক্ষতিকর ?

জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশন অনুসারে কিডনি রোগ প্রতি বছর ৯০,০০০ এরও বেশি আমেরিকানের জীবন কেড়ে নেয়। এই সংখ্যা স্তন এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা জানি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন যাপনের জন্য কিডনির সুস্থতা অত্যন্ত অপরিহার্য ।আপনার ঘুমের অভ্যাস এবং খাদ্যাভ্যাসে ছোট পরিবর্তন করে আপনি কিডনি রোগের সম্ভাবনা কমাতে পারেন।

লবণের পরিবর্তে ব্যবহার করুন ভেষজ –

খাবারে লবণ যোগ করলে স্বাদ বাড়ে, কিন্তু এটি আপনার রক্তে ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে, যার ফলে আপনার কিডনিকে শরীর থেকে পানি অপসারণের জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। ২০১৮ সালে, জার্নাল অফ ক্লিনিকাল হাইপারটেনশনের জন্য করা গবেষণা প্রমাণ করেছে অত্যধিক লবণ খাওয়া সরাসরি কিডনি রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) সুপারিশ করে যে মানুষ প্রতিদিন এক চা চামচেরও সীমিত লবণ গ্রহণ করুক।

ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার সীমিত করুন –

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে টাইলেনল বা অ্যাডভিলের মতো ব্যথানাশক ওষুধের প্রচুর ব্যবহার প্রতি বছর মার্কিন ৫০হাজারেরও বেশি কিডনি বিফলতার ঘটনা ঘটায়। সময়ের সাথে সাথে এটি কিডনিতে অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হল খালি পেট। অবশ্যই, মাঝে মাঝে মাথাব্যথা বা পিঠে ব্যথার জন্য ব্যথানাশক নেওয়া ঠিক আছে। তবে ব্যথানাশক ওষুধের অত্যাধিক ব্যবহার কিডনিতে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়।

সর্দি-কাশিকে ছোট করে দেখবেন না –

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অনুসারে, একজন ব্যক্তি বছরে গড়ে দুই থেকে তিনটি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। যদি আপনি সর্দি-কাশি অচিকিৎসিত রেখে দেন, আপনার শরীর আরও বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। অতিরিক্ত সর্দি সময়ের সাথে সাথে কিডনির জন্য অস্বাস্থ্যকর হতে শুরু করে।

বাথরুম ব্যবহার করতে দেরি করবেন না –
বাথরুমে যাওয়া বিলম্বিত করা কিডনি রোগের অন্যতম বড় কারণ। প্রস্রাব যত দীর্ঘ সময় শরীরে থাকে, তত খারাপ।
এটি এমন ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল যা শরীরে কিছুক্ষনের বেশি থাকা উচিত নয়, যত দীর্ঘ সময় থাকে, তত বেশি ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। একসময় এই ব্যাকটেরিয়া আপনার কিডনিতে পৌঁছাতে পারে।

সিগারেটকে বিদায় বলুন –

এই যুগে এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ধূমপান আপনার ফুসফুস এবং হার্টের জন্য জন্য ভয়ানক। টে আপনি কি জানতেন এটি আপনার কিডনির জন্যও সমান খারাপ? ২০০০ সালে, অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিনের জন্য একটি গবেষণা করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায় চেইন স্মোকাররা, বর্তমান এবং প্রাক্তন উভয়ই, কিডনি রোগের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিতে আছে। সিগারেট শরীরে ক্রিয়েটিনিন তৈরি করে, যা কিডনির জন্য অস্বাস্থ্যকর।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন –

খাবারকে দীর্ঘ সময় ধরে তাজা রাখার জন্য, সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম যোগ করে যা আপনার কিডনির জন্য খুব বিপজ্জনক। সোডিয়াম ছাড়াও তারা প্রক্রিয়াজাত খাবারে অন্যান্য উপাদান এমণভাবে ব্যবহার করে যার পরিমাণ আপনার যতটুকু খাওয়া উচিত তার চেয়ে বেশি।

সোডা থেকে দূরে থাকুন –

সোডা চিনি ছাড়া শরীরে কোন পুষ্টি দেয় না। ১২ আউন্স সোডাতে যতটা চিনি আছে তা আপনি সাড়ে তিনটি ডোনাট খেয়ে গ্রহণ করেন।
গবেষণা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে প্রতিদিন দুই বা তার বেশি সোডা পান করলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে শুধু চিনিই খারাপ উপাদান নয়। সোডাতে ফসফরিক অ্যাসিডের উচ্চ পরিমাণের কারণে কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন