ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিপুল সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব।
– বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন
“ ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ফারজানা লিও কাজিপাড়া ও শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন ও স্লোগান দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই আন্দোলনের সাথে নারীরা যদি একাত্ম না হতো তাহলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হতো না। নারীরা যখন ব্যাপক সংখ্যায় শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে যায় তখন তাদের পক্ষে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না।”
“ফারজানা লিও তার জীবনে কখনোই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না। নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের গুলি করে মেরেছে সেটি দেখে বেশ মর্মাহত হয়েছিলেন তিনি। এই বিষয়টি তাকে রাস্তায় টেনে নামিয়েছে।” তিনি বলেন, “বহু নারী রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন আবার অনেককে বাড়িতে থেকেও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জুগিয়েছেন। সন্তান যখন তার মায়ের দিক থেকে সাপোর্ট পায় তখন কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না।”
“পুলিশের গুলিতে যখন শিক্ষার্থীরা নিহত হচ্ছিল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী ১৬ বছরের রিদিমা ও তার ভাইও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। এই বিক্ষোভে সন্তানদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন তাদের মা-বাবাও।”
- “রাস্তায় গুলি আর নিহত হবার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন তারা সর্বপরিবারে রাস্তায় গিয়েছিলেন?”
- “মাতৃত্বটা আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে। সন্তান যারই হোক না কেন, প্রত্যেকটা মা মনে করে প্রতিটা সন্তানই আমাদের সন্তান। যখন আমরা দেখলাম যে ভয় পেয়ে লাভ নেই, আমাদের বাচ্চাদের তো আমরা বাঁচাতে পারছি না। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল । তারপরেও তাদের টর্চার করা হচ্ছে , মেরে ফেলা হচ্ছে নির্বিচারে। তখন তো আমাদের আর ভয় পেয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা ঘরে থেকে কী করবো?”


