আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে অজস্র মামলা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনে আসছে, আসামি করার পর তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাদী ‘হলফনামা’ দিয়ে বলছেন, তিনি নির্দোষ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি একাধিকবার বলেছেন, মামলা হতে হবে ‘সুনির্দিষ্ট’। আবার যখন মামলা হচ্ছে, তখন মন্ত্রণালয় পুলিশকে অভিযোগ নিয়ে গেলেই তা জমা নিতে বলছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার এক কর্মকর্তা বলেছেন, মামলা না নিলেই বলা হবে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’, এই ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব না। কেবল থানা নয়, মামলার আবেদন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতেও।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তারের জন্য, আবার কাউকে গ্রেপ্তার ‘না করার জন্য’ বাদীপক্ষ থেকে সমানে চাপ আসছে। ‘এত চাপ সামলে মামলাগুলো সুরাহা করা পুলিশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার’ বলেছেন পুলিশের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন এর নভেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা এবং চাঁদাবাজি ও হয়রানি করতে অনেককে আসামি করা হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে এসেছে।’
গত ৮ ডিসেম্বর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী বলেন, ‘অনেক বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করেছেন পরিকল্পিতভাবে ‘বাণিজ্য করতে’। এজন্য ১৫০-২০০ বা আরও বেশি আসামি করা হয়েছে। প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা বা বিগত সরকারের শীর্ষ নেতাদের নাম দিয়ে পরে ঢালাওভাবে ইচ্ছেমত নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পুলিশকে মামলা নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
তার তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘এসব মামলাকে কেন্দ্র করে অনেকে বাণিজ্য করছে, তারাও প্রভাবশালী লোক। নিরীহ লোকদের আসামি করা হয়েছে, তাদের নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন, প্রতারিত করছেন, টাকা নিচ্ছেন।’ গত ১২ নভেম্বর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ঢালাও মামলার একটা মারাত্মক প্রকোপ দেশে দেখা দিয়েছে, এটা আমাদেরকে অত্যন্ত বিব্রত করে।’ এই ধরনের কথা সরকারের তরফে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


