মৌলিক সংস্কার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবিতে গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন। এতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিসের দুই ভাগসহ সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের পক্ষের দলগুলোর নেতারা আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সংস্কারে বিএনপির বিপরীতে অবস্থান নেওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপির বাইরে বৃহত্তর সমঝোতা গড়ার চেষ্টা চলছে। ইসলামী আন্দোলনের গতকালের সমাবেশের জনসমাগমকে সেই প্রক্রিয়ার প্রতি জনসমর্থন প্রকাশের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মোকাবিলায় আগামী নির্বাচনে একে অন্যকে আসনভিত্তিক ছাড় দেবে, এমন চিন্তা নিয়ে দলগুলোর নেতারা অগ্রসর হচ্ছেন।
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন সংসদের নিম্নকক্ষেও ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন তথা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। তবে দুটি দলের সূত্রই বলেছে, বিএনপি উচ্চকক্ষে আনুপাতিক নির্বাচন মেনে নিলে তারা নিম্নকক্ষে বিদ্যমান পদ্ধতির নির্বাচন মেনে নেবে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমকালকে বলেছেন, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন হতেই হবে। এ বিষয়ে ছাড় দিয়ে সংস্কার হবে না। বিএনপি বলছে, আনুপাতিক উচ্চকক্ষ হলে নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তথা সরকারি দল আইন প্রণয়নে বাধাগ্রস্ত হবে।
গতকাল সমাবেশে উপস্থিত দলগুলো সংলাপে ঐকমত্য না হলে গণভোট চায় বলে জানিয়েছে। মূলত সংস্কার প্রস্তাবের যে বিষয়গুলো নিয়ে কমিশনের বৈঠকে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো আলোচনার টেবিল থেকে মাঠে নিয়ে আসার ইঙ্গিত রয়েছে এতে।
উচ্চকক্ষে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ, সাংবিধানিক নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ সংলাপে অংশ নেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের একই অভিমত।
বিএনপির বক্তব্য–যদি সাংবিধানিক নিয়োগে নির্বাহী বিভাগ তথা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব না হয়, তবে মেয়াদ নির্ধারণে রাজি বিএনপি। তাদের যুক্তি, সরকারপ্রধানের ক্ষমতা কমালে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হবে না।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেবে কি না, দলটি অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না; এমন কিছু বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এ ছাড়া বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যদি সরকার গঠন করে তাহলে বিরোধী দল কারা হবে, সেটারও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়গুলোকে ঘিরেই এখনকার রাজনীতি আবর্তিত বলে মনে করা হচ্ছে।


