আদিবাসীদের ভূমি ও মানবাধিকার রক্ষা করবে কে?

আদিবাসীদের ভূমি, বন ও মানবাধিকার রক্ষায় সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকার ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকার দাবি উঠেছে একটি সাম্প্রতিক সেমিনারে। ‘আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভূমি, বন ও মানবাধিকার সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় চলমান সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, এএলআরডি এবং আরও ১৪টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ও প্যানেল আলোচকরা একযোগে আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসানসহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং তাঁর প্রাথমিক বক্তব্যে বলেন, “নাগরিকদের অপমান করা পাপ। আমাদের দেশে বাঙালি ছাড়া অন্য কোনো জাতি নেই এই বক্তব্য ভুল। আমরা সবাই এই দেশের অধিবাসী, বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, আদিবাসী জনগণের ওপর চলমান বৈষম্য দূর করতে আদিবাসী বিষয়ক একটি কমিশন গঠন ও নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সমতল আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক উজ্জ্বল আজিম তাঁর প্রবন্ধে তুলে ধরেন, বাংলাদেশের আদিবাসীরা এখনও সাংবিধানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত, যা তাদের ওপর বৈষম্যের এক বড় কারণ। ঐতিহ্যগত ভূমি জোরপূর্বক দখল, দলিল জালিয়াতি এবং ঘর উচ্ছেদ তাদের জীবনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণসহ মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। মাতৃভাষায় শিক্ষার অভাব ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে আদিবাসীদের জীবনমান দুর্বল হচ্ছে।

উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছরে সেই উদ্যোগগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি, ফলে আদিবাসীদের অধিকার ও সুরক্ষা এখন অগ্রাধিকার তালিকা থেকে প্রায় বাদ পড়েছে। প্রকৃত অর্থে যেসব সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, সেগুলো এখনও অনুল্লিখিত রয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা সরকার এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে আদিবাসীদের ভূমি, বন ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।আদিবাসী জনগণের জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন, কার্যকর কমিশন গঠন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মতো বাস্তব পদক্ষেপ। আদিবাসীদের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষা করে বাংলাদেশে সাম্য ও ঐক্যের বুনিয়াদ মজবুত করার প্রত্যয় প্রকাশ করেন সব অংশগ্রহণকারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন