বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ৬২৯ জন গুমের শিকার হয়েছেন।গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাক এখনও নিখোঁজ ১৫৮ জনের একটি তালিকা দিয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা লক্ষ্যবস্তু করা ব্যক্তিদের গুম করার প্রবণতা শুরু হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এটা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা হতো, তাঁদের গোপন বন্দিশালায় রাখা হতো। আবার কাউকে তুলে নেওয়ার পরপর বা অল্প দিনের মধ্যে মেরে ফেলা হয়েছে। কাউকে কিছুদিন নির্যাতনের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অথবা মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
বন্দিশালা থেকে ছাড়া পাওয়া কয়েকজনের বর্ণনায় প্রকাশ পায় ‘আয়নাঘর’-এর রোমহর্ষক কাহিনি। প্রহরীরা মাঝেমধ্যে অবজ্ঞা করে বলত, আয়নাঘরের মধ্যে আছেন। আয়নাঘর একটি রূপক নাম যেখানে নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। ঢাকায় কিছুক্ষেত্রে ডিজিএফআই কার্যালয়ের কাছাকাছি সেনানিবাস এলাকায় আমানঘর বা গোপন বন্দিশালা পরিচালিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর ইন্টারোগেশন সেলের অপব্যবহার করেও বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।
র্যাব ও পুলিশের কোনো কোনো শাখারও নির্যাতনের এমন সেল ছিল। বিশেষ করে উত্তরা র্যাব-১ এর কার্যালয়ের কাছে বেলেনহোলের পাশে এমন গোপন বন্দিশালা ছিল, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেককে প্রথমে সেখানে নিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।মানবাধিকার কর্মীদের দাবি – গুমের জন্য কারা নির্দেশ দিয়েছেন, কোন পর্যায়ে গুমের সিদ্ধান্তগুলো হত, কোনো ব্যক্তি বিশেষ নাকি কোনো সংস্থা বা বাহিনী সিদ্ধান্ত নিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কী ছিল এসব নিয়ে বিশদ তদন্ত দরকার, যাতে এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা যায়।


