বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজ শনিবার সকালে বিশ্বের ৬ষ্ঠ সর্বাধিক দূষিত শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে, যেখানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ১৫২ রেকর্ড করেছে। এই স্কোর “অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পড়ে এবং শহরের প্রায় ২ কোটি বাসিন্দার জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আজকের এই অবস্থান ঢাকার দীর্ঘদিনের বায়ু দূষণ সমস্যার একটি প্রতিফলন, যা বছরের পর বছর ধরে শহরবাসীর জীবনযাত্রার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে আসছে।
আজ সকাল ৯:২০ মিনিটে পরিমাপিত AQI স্কোর অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় মিশরের কায়রো এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর কিনশাসা যৌথভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে ১৭৩ স্কোর নিয়ে, আর আফগানিস্তানের কাবুল তৃতীয় স্থানে ১৫৮ স্কোর নিয়ে। AQI স্কেল অনুযায়ী, ৫০-১০০ স্কোর “মাঝারি”, ১০১-১৫০ “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর”, ১৫০-২০০ “অস্বাস্থ্যকর”, ২০১-৩০০ “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর” এবং ৩০১ বা তার বেশি “বিপজ্জনক” হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঢাকার বায়ু দূষণের পেছনে রয়েছে বহুবিধ কারণ। গৃহস্থালী জ্বালানি দহন সবচেয়ে বড় অবদানকারী (২৮%), এরপর রয়েছে ইটভাটা (১৩%) এবং পরিবহন সেক্টর (৪%)। শীতকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন সীমিত বৃষ্টিপাত, বর্ধিত নির্মাণ কাজ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাতাসের মাধ্যমে আসা আন্তঃসীমান্ত দূষণকারী পদার্থ শহরের বায়ুর গুণমানকে বিষাক্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও PM10 এবং PM2.5 কণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন এই দূষণের মূল উপাদান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়, মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে। শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা এই দূষণের কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ঢাকার বায়ু দূষণ একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য সমস্যা যা তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ দাবি করে। যদিও বর্ষাকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়, তবুও সারা বছরই এই সমস্যা বিদ্যমান থাকে। কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, শিল্প নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।


