সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভে বুধবার ১৮৩টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ৬৬টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। বাকি ১১৭ কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ না করায় ছুটি দেওয়া হয়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে গতকাল গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় বিগবস করপোরেশন নামে একটি কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রম অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সাধারণত পাঁচ বছর পর মজুরি সমন্বয় করা হলেও এবার তা আগেই করার কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বাড়ানো, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, নিয়োগে নারী-পুরুষের সমঅধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে ৩১শে অগাস্ট থেকে গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। পরে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা আশুলিয়ার শ্রমিকদের হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
আজও আশুলিয়ায় ২১৯টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। কিছু আগে থেকে বন্ধ এবং বাকি কারখানার শ্রমিকরা প্রবেশের পর কর্মবিরতিসহ কারখানা থেকে বের হয়ে যায়। শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৮৬টি কারখানা। বাকী ১৩৩টি কারখানা আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা বিভাগে বেআইনি ধর্মঘটের কারণে মালিক উক্ত শাখা বা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা কোনো মজুরি পাবেন না। শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য কারখানাগুলোতে কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।


