ভিক্টোরিয়া ইসলামিক কাউন্সিল (আইসিভি) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামোফোবিয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিভি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি বা প্রকাশিত রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। শনিবার মেলবোর্নে ইসলামোফোবিয়া বিষয়ক আইসিভি’র প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ৮৫%-এর বেশি ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত ঘটনা সাধারণত রিপোর্ট করা হয় না।
কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে তারা ইসলামোফোবিয়ার শিকার মানুষের কাছ থেকে মোট ৯৬টি ব্যক্তিগত ঘটনার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি প্রতিবেদন এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে। বেশিরভাগ প্রতিবেদনে মৌখিক হয়রানি, উপহাস ও অসম্মানজনক আচরণের ঘটনা উঠে এসেছে। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সামাজিক দূরত্বের মতো সমস্যার কথাও উল্লেখযোগ্য।
আইসিভি আরও জানিয়েছে, অনেক ঘটনা সরাসরি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়নি, তবে মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন ঘৃণামূলক মন্তব্য, মুসলিম সংস্থাগুলোতে প্রেরিত হুমকিপূর্ণ ইমেইল, শত্রুতাপূর্ণ ফোন কল এবং অমানবিক মিডিয়া ভাষ্য-এর মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এমন ধরনের ৩,২৫৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
আইসিভি’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেক মুসলিম ইসলামোফোবিয়ার শিকার হওয়ার পরও অভিযোগ দায়ের করেন না। এর প্রধান কারণ হলো, তাদের আশঙ্কা থাকে যে অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে না। এছাড়াও পুলিশ ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি তাদের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস দেখা যায়। প্রতিবেদন না করার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমস্যার ব্যাপকতা অস্বীকার করা সহজ হয়ে যায়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা প্রাপ্য সমর্থন, স্বীকৃতি বা ন্যায়িক বিচার পেতে ব্যর্থ হন। এই পরিস্থিতিতে ‘অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি) দ্বারা পরিচালিত হবে। এর আওতায় ইসলামোফোবিয়ার শিকারদের জন্য সহায়তা হটলাইন এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রদায় এ ধরনের আচরণের ব্যাপারে আরও সঠিক তথ্য পান।
এএনআইসির প্রেসিডেন্ট ইমাম শাদি আলসুলেইমান এর আগে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, মুসলিমবিরোধী ঘৃণা বাড়ার কারণে অনেকেই দৈনন্দিন ধর্মীয় কাজ, যেমন মসজিদে নামাজ পড়া বা হিজাব পরে বাইরে যাওয়াসহ ধর্মীয় আচার পালন করতে অনিচ্ছুক বোধ করছেন।


